জামায়াত আমিরের সাথে ইতালি ও আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

Printed Edition
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে বৈঠক করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো : নয়া দিগন্ত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে বৈঠক করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরায় আমিরে জামায়াতের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ ও প্রাতরাশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তার সাথে ছিলেন ডেপুটি হেড অব মিশন ফেডরিকো জামপারেল্লি। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত বৈঠকের শুরুতেই ডা: শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।

বৈঠকে তারা বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও টেকসইকরণ, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষ দুই দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমিরের সাথে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আলজেরিয়ান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেল ওহাব সাইদানি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল বসুন্ধরায় আমিরে জামায়াতের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত ডা: শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে গণতন্ত্র টেকসইকরণ, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

এ সময় জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

শহিদুল আলমকে আটকের নিন্দা : বাংলাদেশী আলোকচিত্র শিল্পী ও লেখক শহিদুল আলমকে ইসরাইলি বাহিনীর আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ও নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গাজা ফ্রিডম ফোটিলা’র জাহাজ কনশানসসহ একাধিক নৌযান বুধবার আন্তর্জাতিক পানিসীমায় আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় তারা ৯৩ জন সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীকে আটক করে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমও রয়েছেন। এই নৌযানগুলো গাজাবাসীর জন্য খাদ্য, পানি ও ওষুধসহ জরুরি মানবিক সহায়তা বহন করছিল। ইসরাইলের এই অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা গন্তব্যে পৌঁছতে কাউকে বাধা দেয়া যায় না। দখলদার ইসরাইল নৌযান ও মানবাধিকার কর্মীদের আটক করে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করেছে। ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার নিন্দা ঝড় উঠেছে। গাজার নিরীহ জনগণের প্রতি এই আক্রমণ মানবতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তিনি বলেন, ক্ষুধার্ত ও অবরুদ্ধ গাজাবাসীর প্রাণরক্ষায় ত্রাণবাহী জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে, সে জন্য ইসরাইলের ওপর অবিলম্বে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। একই সাথে আটক বাংলাদেশী আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ সব মানবাধিকার কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। আমি বিশ্ববাসীর প্রতি এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

ড. আহমদ ওমর হাশেমের ইন্তেকালে শোক : মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদের বরেণ্য অধ্যাপক, হাদিস বিভাগের প্রখ্যাত পণ্ডিত ড. আহমদ ওমর হাশেম রহ:-এর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। শোকবাণীতে তিনি বলেন, মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদের বরেণ্য অধ্যাপক, হাদিস বিভাগের প্রখ্যাত পণ্ডিত এবং আল-আজহার শরিফের সিনিয়র স্কলারস কাউন্সিলের সদস্য, প্রাক্তন উকিলুল আজহার ড. আহমদ ওমর হাশেম রহ: মঙ্গলবার ভোরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শোকবাণীতে তিনি আরো বলেন, ড. আহমদ ওমর হাশেম রহ: আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন আরব ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিযুক্ত হন। এ ছাড়া তিনি ছিলেন ইসলামী গবেষণা পরিষদ (মাজমাউল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ), ইসলামবিষয়ক উচ্চতর পরিষদ (আল মজলিসুল আ’লা লিশ-শুউনিল ইসলামিয়্যাহ) এবং মিসরের দু’টি সংসদীয় পরিষদ মজলিসুশ-শা’ব ও মজলিসুশ-শূরার সদস্য। সুন্নাহ ও হাদিসশাস্ত্রে তার বৈচিত্র্যময় গবেষণা ও রচনার মাধ্যমে তিনি ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেন। আমি তার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি।