মিরসরাইয়ে অসময়ে তরমুজ চাষে দ্বিগুণ লাভ

২০২৩ সালে মাত্র ৫০ শতকে এ চাষ শুরু হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ শতকে। লাভজনক হওয়ায় অসময়ের তরমুজ চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। চলতি মাসেই সব তরমুজ বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
Printed Edition
মিরসরাইয়ে মাচাং পদ্ধতিতে গাছে ঝুলছে তরমুজ
মিরসরাইয়ে মাচাং পদ্ধতিতে গাছে ঝুলছে তরমুজ |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অসময়ে তরমুজ চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কম খরচে বেশি ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ চাষাবাদ এখন এলাকাজুড়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। মালচিং ও মাচাং পদ্ধতির উচ্চ ফলনশীল তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন উপজেলার নতুন কৃষকরাও।

উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তা, মসজিদিয়া বুজননগর ও মাছুমেরতালুক এলাকায় তরমুজ চাষ করে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। স্বল্প পুঁজিতে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভ হওয়ায় এ চাষাবাদে যুক্ত হয়েছেন আরো অনেকে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্টের (এসএসিপি) আওতায় আটজন কৃষককে প্রদর্শনী প্লট দেয়া হয়েছে। আরো দুইজন নিজ উদ্যোগে চাষ করেছেন। মোট ৩০০ শতক জমিতে এবার তরমুজ আবাদ হয়েছে। কৃষকদের দেয়া হয়েছে মালচিং পেপার, বীজ, সার ও প্রশিক্ষণসহ সবধরনের কারিগরি সহায়তা।

নিশ্চিন্তার কৃষক রাজু চন্দ্র দাশ বলেন, প্রথমবার ৩৩ শতকে ছয় জাতের তরমুজ চাষ করেছি। মালচিং পদ্ধতিতে ফলন খুবই ভালো হয়েছে। খরচ হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, বিক্রি করতে পারব অন্তত তিন লাখ টাকার তরমুজ।

কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, দ্বিতীয় বছরের মতো তরমুজ চাষ করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘৩৩ শতকে কয়েক জাতের তরমুজ করেছি। খরচ ৮৫ হাজার টাকা। আশা করছি দেড় থেকে দুই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারব।’

উপজেলায় চাষ হওয়া তরমুজের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক বেরি, সূর্য ডিম, বাংলালিংক, রসগোল্লা, লিয়োনা, কিং সুপার, বিগবাইট, জাফরান ও সুইটবাইট। প্রতিটি তরমুজের ওজন তিন থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত। বীজ বপন থেকে বাজারজাত করতে সময় লাগে ৭০-৭৫ দিন। প্রকারভেদে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, গত তিন বছর ধরে তার দায়িত্বাধীন এলাকায় অসময়ের তরমুজ চাষ হচ্ছে। কৃষকরা নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ পাচ্ছেন। অল্প সময়ে ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন আবাদ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, ২০২৩ সালে মাত্র ৫০ শতকে এ চাষ শুরু হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ শতকে। লাভজনক হওয়ায় অসময়ের তরমুজ চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। চলতি মাসেই সব তরমুজ বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, এসএসিপির সহায়তায় কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এ চাষ আগামীতে আরো বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।