ক্রীড়া ডেস্ক
উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপের আসর বসেছিল ১৯৩০ সালে। মেগা আসরের দ্বিতীয় আয়োজক ছিল ইতালি। সেই আসরে প্রথমবার খেলেছিল মিসর। বিশ্ব আসরে খেলা প্রথম আরব ও আফ্রিকান দেশ ছিল তারাই। কিন্তু বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচেই জয় পায়নি আরব দেশটি। দীর্ঘ ৯২ বছর পর অধরা জয়ের আক্ষেপ ঘুচাল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে স্মরণীয় জয়ের স্বাদ পেল মোহাম্মদ সালাহর দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে মিসর। ফিন সুরমানের গোলে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর মিসরকে সমতায় ফেরান মোস্তাফা জিকো। এরপর ব্যবধান বাড়ান মিসরীয় রাজা সালাহ। দলের হয়ে শেষ গোলটি করেন ট্রেজেগেট।
কানাডার ভ্যানকুভারে ফেবারিট হিসেবে শুরু করে মিসর। বিসি প্লেসের গ্যালারিতেও ছিল তাদের সমর্থনে দর্শকের জোয়ার। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে নিউজিল্যান্ড। সেই ধারায় গ্যালারির লালের সমুদ্র শান্তও করে দেয় রক্ষণের এক অসতর্কতায়। ম্যাচের ১৫ মিনিটে সুরমানের গোলে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। টিম পেইনের কর্নার থেকে আসা বলে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ডিফেন্ডারের হেডে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরতে থাকে মিসর। তবে প্রথমার্ধে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চললেও খুব ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আর কোনো দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার আরো বাড়িয়ে দেয় মিসর। ৪৭ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রসে বল পেয়ে ঝলক দেখান সালাহ। বক্সের ভেতরে প্রথম স্পর্শেই তিনি বলটি নিয়ন্ত্রণে আনেন; কিন্তু দ্বিতীয় স্পর্শে সুবিধা করতে পারেননি, বল চলে যায় সরাসরি গোলরক্ষকের ক্রোকোম্বের হাতে। গোলের জন্য মরিয়া মিশর সফলতা পায় ম্যাচের ৫৮ মিনিটে। হেনির চমৎকার ক্রসে বক্সের ভেতর ফাঁকায় থাকা জিকোর জোরাল হেড গোলরক্ষকের হাতে লেগে জড়ায় জালে। সমতায় ফেরার পর আরো উজ্জীবিত হয়ে উঠে মিসর। এগিয়েও যায় খুব দ্রুতই।
ডান প্রান্ত থেকে দু’জনের মধ্য দিয়ে সালাহ বক্সে ঢুকে জিকোর সাথে ওয়ান-টু খেলে চমৎকার গড়ানো শটে পরাস্ত করেন গোলরক্ষককে। ২০১৮ বিশ্বকাপে দু’টি গোল করলেও দলের জয় দেখতে পাননি মিসরীয় রাজা। এবার তার গোলেই জয়ের পথে এগিয়ে গেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। ৭৬ মিনিটে জিকো ও মার্মাউশকে তুলে নিয়ে হামজা আবদেলকারিম ও ত্রেজেগেকে নামান মিসর কোচ। ফল মিলতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ৮২ মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে নিচু হেডে গোল করে ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত করেন ত্রেজেগে। তাকেও ফাঁকায় রেখেছিল নিউজিল্যান্ডের রক্ষণভাগ। ৯২ বছর পর হাঙ্গেরির বিপক্ষে এক ম্যাচে দুই গোল পেয়েছিল মিসর। এবার প্রথম এক ম্যাচে একাধিক গোল পেল ফারাওরা।
এই জয়ে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে এখন সালাহর দেশটি। সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে নিউজিল্যান্ড। তবে হেরে গেলেও নিউজিল্যান্ডের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপের পরের ম্যাচে বেলজিয়ামকে হারাতে পারলে পরের রাউন্ডে যেতে পারে দ্য অল হোয়াইটসরা।



