ঢাকা-১৬-কে মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত করার অঙ্গীকার আমিনুল হকের

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
Printed Edition
ঢাকা-১৬-কে মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত  করার অঙ্গীকার আমিনুল হকের
ঢাকা-১৬-কে মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত করার অঙ্গীকার আমিনুল হকের

ঢাকা-১৬ জাতীয় সংসদের ১৮৯ নং আসন। আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পল্লøবী এলাকার ২, ৩, ৫. ৬নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেশের ১১টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। বিএনপি থেকে প্রার্থী করা হয়েছে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হককে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: আবদুল বাতেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি থেকে এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশ সংস্কৃতি মুক্তজোট থেকে মো: আবদুল কাদের জিলানী, এনপিপি থেকে মো: তরিকুল ইসলাম, বিজেপি থেকে মো: নাজমুল হক, গণ অধিকার পরিষদ থেকে মো: মামুন। হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে মো: রাশিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো: সাইফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি থেকে মো: সুলতান আহমেদ সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করছেন। আসনটির নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নয়া দিগন্তের মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হক।

নয়া দিগন্ত : আপনার এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো কী?

আমিনুল হক : আমার এলাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে ড্রেনেজ-ব্যবস্থা, গ্যাস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট। বিশেষ করে এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পোশাক শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষ বসবাস করে। তাই গ্যাসের সমস্যার কারণে এসব মানুষের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

নয়া দিগন্ত : এই এলাকার যানজট নিরসনে আপনি কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?

আমিনুল হক : যানজটের ভোগান্তির কারণে রাজধানীর অন্য অঞ্চলের মানুষ এক সময় এ এলাকায় আসতে ভয় পেত। এখন আগের সে সমস্যা নেই। তারপর দিন যাচ্ছে আর রাজধানীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে গণপরিবহনসহ পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে যানজট নিরসনে কাজ করব। পুরো এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ট্রাফিক-ব্যবস্থা ঢেলে সাজাব।

নয়া দিগন্ত : আপনার নির্বাচনী আসনে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা রয়েছে। এখানে বহু ব্যাংক-বীমাসহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠাও অবস্থিত। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। এই সমস্যা সমাধানে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?

আমিনুল হক : গত ১৭ বছরে আমার নির্বাচনী এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচিত হলে এলাকাকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত করব। এসব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

নয়া দিগন্ত : এলাকার যুবকদের জন্য আপনার কী মেসেজ থাকবে?

আমিনুল হক : যুবকদের প্রতি আহ্বান জানাব ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কর্ণধার হিসেবে তারা যেন কর্মমুখী শিক্ষার দিকে ধাবিত হয়। একটি সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সহযোগিতা করে। যুবকদের কর্মমুখী করে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান আমিনুল হক।

নয়া দিগন্ত : আপনার এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?

আমিনুল হক : আমার দল সরকার গঠন করলে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষার উন্নয়নের একটি নীতি গ্রহণের পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনার সাথে মিল রেখে শিক্ষাবান্ধব এলাকা বিনির্মাণে আমি কাজ করব।

নয়া দিগন্ত : কেমন নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন?

আমিনুল হক : একটি অবাধ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এখন পর্যন্ত আনার নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ সন্তোষজনক। খুব আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা যার যার নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। এ ছাড়া জনগণ দীর্ঘ সময় ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা প্রত্যাশা করি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের হারানো সেই অধিকার ফিরে পাবে।

নয়া দিগন্ত : জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

আমিনুল হক : দীর্ঘ সময় আমি এ অঞ্চলের মানুষের সাথে কাজ করেছি। বিগত ফ্যাসিবাদের পুরোটা সময় এ এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। এ এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। ইনশাআল্লাহ আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

উল্লেখ্য, ঢাকা-১৬ সংসদীয় আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪,০০,৪৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,০১,১৬৮ জন, নারী ভোটার ১,৯৯,৩২৩ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আটজন। আসনটির সীমানা পরিবর্তন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত চারবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এই আসনে নির্বাচিত হন।