রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ায় মাদরাসার শিক্ষক চাকরিচ্যুত

Printed Edition

নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

সালথায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে রিকশা প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগে এক কওমি মাদরাসার শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ নিয়ে নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক হাফেজ মো: মুকতার হুসাইন (৫০) গত মঙ্গলবার দুপুরে সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

হাফেজ মুকতার হুসাইন সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া রহমানিয়া তালতলা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক। তার বাড়ি নগরকান্দা উপজেলার ঈশ্বরদী গ্রামে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা হেদায়েত উল্লাহর ভাই কাইয়ুম মোল্যা ও স্থানীয় উজ্জ্বল মাতুব্বর তাকে ক্লাসরুম থেকে ডেকে নেন। এ সময় রিকশা প্রতীকে ভোট চাওয়ার বিষয় স্বীকার করার পর তাকে গালাগালি ও হুমকি দেয়া হয়। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তার বকেয়া বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে বিদায় করে দেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সালথা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুর-২ আসনে জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা আকরাম আলী হুজুরের পক্ষে রিকশা প্রতীকে ভোট চাওয়ায় একজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সালথা ও নগরকান্দায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই এবং বিরোধী পক্ষের হুমকি-ধামকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসার মুহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা বলেন, হাফেজ মুকতার হুসাইন ক্লাস চলাকালে ছাত্রদের কাছে রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ায় মাদরাসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। এ বিষয়ে সতর্ক করতে গেলে তিনি উল্টো হুমকি দিয়ে নিজে থেকেই ত্যাগ করেন।