পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে স্থানীয় কিছু ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে তারা বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান।
দফতর সূত্রে জানা গেছে, উপসহকারী প্রকৌশলী সৌরভ কুমার ৪ বছর, মানিক মিয়া ৫ বছর এবং কার্যসহকারী আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ ৭ বছর ধরে একই অফিসে কর্মরত। দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকায় তারা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু ঠিকাদার এখনো রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে বিভিন্ন প্রকল্পে। দহগ্রাম ইউনিয়নে এডিপির দুই লাখ টাকা বরাদ্দে ৭টি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে, যেটিতে সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে বলে স্থানীয়দের দাবি; বাকি টাকার কোনো হদিস নেই। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে এডিপির ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দে বিভিন্ন ইউনিয়নে টিউবওয়েল, কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুচলীবাড়ি ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানান, তার প্রকল্প থেকে ১০ শতাংশ কমিশন নেয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে বাউরা বাজারের এক কোটি ১৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার প্রভাতি প্রকল্পে। উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামানের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ করানো এবং শ্রমিকদের মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছরে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের তথ্য চাইলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান বলেন, আমার পদোন্নতি হয়েছে, নতুন কেউ এলেই আমি রংপুরে বদলি হয়ে চলে যাবো।



