নিজস্ব প্রতিবেদক ও নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেখানে শুধু চিকিৎসার উপরই নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের উপরও জোর দিচ্ছি।
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ও হোয়াইট হাউজের উদ্যোগে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে’ যোগ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।
গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪০ জনের বেশি ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেন। এই প্লাটফর্মটি বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রতি যতœ নেয়া ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যতœশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে।
প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যতœ, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করে ডা: জুবাইদা বলেন, আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যতœ প্রদান করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তা-ই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।
অন্তর্ভুক্তি ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে। যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনো অধরা। বিএনপি সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। শিক্ষকদের ট্যাবলেট-কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষা উপকরণ হালনাগাদ, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে।
ডা. জুবাইদা বলেন, শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তি, বিশেষ করে ‘এড-টেক’ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। একইসাথে, আমরা এই প্রযুক্তিগুলোর নিরাপদ এবং নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ডা: জুবাইদা বলেন, নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পোশাক শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করে লাখ লাখ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে যে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে।
ডা: জুবাইদা রহমানের সহকারী হিসেবে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা: শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, নারী উদ্যোক্তা মেহনাজ মান্নান, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো: আরিফুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি এম সালাহউদ্দিন মাহমুদ।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউজে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষ দূত চার্লস হায়দারের সাথে বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস হায়দারের (ঈযধৎষবং ঔ. ঐধৎফবৎ) সাথে বৈঠক করেছেন ডা: জুবাইদা রহমান। বৈঠকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন, শিশুদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে টেকসই অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি, শিশুদের পুষ্টি ও মানসিক বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে।



