জুলাই আন্দোলনের দিকনির্দেশনায় কমিটি ছিল জামায়াতের : রফিকুল ইসলাম খান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দিতে জামায়াতে ইসলামীর একটি ছোট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীনের ঢাকা বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকে গাইড করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ওই ছোট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আন্দোলনের সময়কার প্রতিটি ঘটনা এখনো তার চোখের সামনে ভাসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের নির্বাচনী রাজনীতির ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী তৃতীয় সর্বোচ্চ বিরোধী দল। তার দাবি, ধারাবাহিকভাবে একই দল পরপর দুইবার সরকার গঠন করার নজির নেই। সেই হিসেবে পরবর্তী সরকার জামায়াত গঠন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরো দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অতীতে এর চেয়ে কম ভোট পেয়েও সরকার গঠনের নজির রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদী আমলে মুফাসসিররা স্বাধীনভাবে তাফসির করতে পারেননি উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৭ বছর আন্দোলন করেও রাজনৈতিক দলগুলো শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেনি। তার ভাষায়, যেভাবে তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, তা অনেকের কল্পনার বাইরে ছিল।

তিনি আরো বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে এখন স্বীকৃত। তার দাবি, জনগণ জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা ও ১১-দলীয় জোটের পক্ষে ভোট দিলেও সেই ভোট সংরক্ষণের সক্ষমতা তাদের ছিল না।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ওয়াজের উদ্দেশ্য মানুষকে আল্লাহভীতি ও আখিরাতমুখী করা। মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে বা ইসলামের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করে এমন বক্তব্য পরিহার করা উচিত।

তিনি বলেন, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলেম-ওলামাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, জনসম্মুখে পারস্পরিক কটূক্তি নয়।

বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীনের ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন তামিরুল মিল্লাতের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আমিন, মাওলানা আব্দুর রহমান ও আল্লামা আলী হাসান ওসামাসহ অন্যরা।