পাবনায় চরমপন্থীদের পোস্টারে জনমনে পুরনো আতঙ্ক

Printed Edition
পাবনার আতাইকুলা এলাকায় সাঁটানো হয়েছে মার্কস ও লেলিনবাদীদের পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির পোস্টার : নয়া দিগন্ত
পাবনার আতাইকুলা এলাকায় সাঁটানো হয়েছে মার্কস ও লেলিনবাদীদের পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির পোস্টার : নয়া দিগন্ত

সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা

পাবনার সাঁথিয়া ও আতাইকুলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ‘পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা)’র দেয়াল লিখন ও পোস্টার দেখা গেছে। প্রায় এক দশক নীরব থাকার পর চরমপন্থী এই সংগঠনের হঠাৎ এমন তৎপরতায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত শনিবার ঈদের রাতে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব পোস্টার সাঁটানো হয়। গত রোববার সকালে আটঘরিয়া, ফরিদপুর ও সাঁথিয়ার একদন্ত, লক্ষ্মীপুর, ভুলবাড়িয়া, ধানুয়াটা ও ধূলাউরীসহ বিভিন্ন বাজারে লাল রঙের এসব পোস্টার পথচারীদের নজরে আসে। পোস্টারগুলোতে কার্ল মার্কস, লেনিন ও মাও সেতুংয়ের ছবির পাশাপাশি ‘ভোটের বাক্সে লাথি মারো, সমাজতন্ত্র কায়েম করো’ এবং ‘বন্দুকের নলই সকল ক্ষমতার উৎস’-এমন উগ্রবাদী স্লোগান লেখা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় তাঁত শিল্প রক্ষা ও রঙ-সুতার অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে পোস্টারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশির ও নব্বইয়ের দশকে এই অঞ্চলে চরমপন্থীদের ব্যাপক দাপট ছিল। ওই সময়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের ঘটনায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। বিগত সরকারের আমলে বিপুলসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করায় সংগঠনটি প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। তেবাড়ীয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, অনেক বছর শান্তিতে ছিলাম। হঠাৎ এই পোস্টার দেখে পুরনো রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। রাতে এখন আর ঠিকমতো ঘুম হয় না।

তবে দলের আত্মসমর্পণ করা এক কর্মী বলেন, আমরা এখন স্বাভাবিক জীবনে আছি, আর ওই অন্ধকার জগতে ফিরতে চাই না। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের এক কথিত কর্মী দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই তারা আবারো সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।

আতাইকুলা থানার ওসি জামিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছি। কারা এই পোস্টারিংয়ের সাথে জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। জননিরাপত্তা বিঘিœত করার মতো কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।