নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রতিদিন গড়ে প্রাণ গেছে প্রায় তিন শিক্ষার্থীর
- দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ শতাংশই শিক্ষার্থী
- মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়
দেশে গত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, যা একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। নিহতদের অর্ধেকের বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী। মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ওঠে এসেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৮ হাজার ৭১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ছিলেন সাত হাজার ৩৬৪ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চার হাজার ৩৬ জন, যা মোট শিক্ষার্থী মৃত্যুর ৫৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্য দিকে পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসার তিন হাজার ৩২৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যা মোটের ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। বছরভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, শিক্ষার্থী মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল ২০২২ সালে। ওই বছর নিহত হন এক হাজার ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ৬৯৩ জন, ২০২০ সালে ৭১৯ জন, ২০২১ সালে ৯৩৬ জন, ২০২৩ সালে এক হাজার ১৫৩ জন, ২০২৪ সালে এক হাজার ৭৩ জন, ২০২৫ সালে এক হাজার ১৪ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন হাজার ৮৪১ জন বা ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী ছিলেন। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ৯২৩ জন। বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৯২৭ জন। বাইসাইকেল ও রিকশা দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫১৯ জনের। আর অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে মারা গেছেন ১৫৪ জন শিক্ষার্থী।
দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে আঞ্চলিক সড়কে, যা মোটের ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে গ্রামীণ সড়ক ২৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ, শহরের সড়ক ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং জাতীয় মহাসড়ক ২০ দশমিক ১২ শতাংশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রামীণ সড়কে মূলত স্কুলে যাওয়া-আসা কিংবা বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা বেশি নিহত হচ্ছে। অন্য দিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা প্রধানত আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
সড়কের পাশাপাশি রেলপথেও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত সাড়ে সাত বছরে কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন দিয়ে হাঁটা কিংবা অসাবধানতাবশত লাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে এক হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও সড়ক পরিবহন খাতে কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়নি। তার ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব, আইন প্রয়োগে দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীন উদ্যোগের কারণে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তিনি সড়ক পরিবহন আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাতের অনিয়ম ও স্বার্থান্বেষী চক্রের প্রভাব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।



