টিকটক-প্রেমের জেরে হত্যার অভিযোগ

২৫ দিন পর ভুট্টা ক্ষেতে যুবকের লাশ

Printed Edition

বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কালসার দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে হাওরের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করার পর জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ১৬৪ ধারা জবানবন্দীতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিংপুর ইউনিয়নের ডুবির হংডাইল এলাকায় একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত দেহাবশেষ পড়ে থাকার খবর পায় এলাকাবাসী। পরে নিকলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাড়গোড় উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

পরে এই দেহাবশেষ নিখোঁজ যুবক আবীর হাসানের (২০) বলে শনাক্ত করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। তিনি উপজেলার ভাটিভরাটিয়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে প্রায় দুই বছর আগে মাহমুদুর হাসান রিয়ান নামে এক যুবকের সঙ্গে রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ এলাকার কেয়া আক্তারের (১৮) পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত আবীর হাসান ও মাহমুদুল হাসান রিয়ান ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং প্রতিবেশী হওয়ায় তারা পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করতেন। আবীর প্রায়ই রিয়ানের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একসময় রিয়ানের স্ত্রী কেয়ার সঙ্গে আবীরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, আবীর হাসান গত ৮ মার্চ রাতে রিয়ানের বাড়িতে গিয়ে কেয়ার সঙ্গে একটি ছবি তোলেন এবং তা রিয়ানের কাছে পাঠিয়ে দেন। রিয়ান তখন চট্টগ্রামে তার বাবা সাথে দেখা করতে গিয়ে সেখানেই ছিলেন। পরদিন ৯ মার্চ সকালে রিয়ান বাড়ি ফেরেন। এরপর থেকে আবীরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, টিকটক সূত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

নিকলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মাহমুদুল হাসান রিয়ান ও তার স্ত্রী কেয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) নিকলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।