বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে চরম ইকুইপমেন্ট-সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য খালাস কার্যক্রম। চাহিদার তুলনায় ক্রেন ও ফর্কলিফট অর্ধেকেরও কম থাকায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বাণিজ্যিক বন্দরে। ফলে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে শত শত কোটি টাকার আমদানীকৃত ভারী যন্ত্রপাতি। চরম আর্থিক লোকসানে পড়ে বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরমুখী হচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভারতে প্রস্তুতকৃত কলকারখানার ভারী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ বেনাপোল। বন্দর দিয়ে মোট আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন ও ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। তবে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজের রয়েছে মাত্র সাতটি ক্রেন ও আটটি ফর্কলিফট। এর মধ্যেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময় অধিকাংশ যন্ত্র অচল থাকে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ জানান, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্র দিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো অসম্ভব। আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকত, এখন তা কমে ৩০০ থেকে ৩৫০-এ নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেই।
আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, বন্দরে পৌঁছানোর পর ওপেন ইয়ার্ডে আনলোড করতে তিন-চার দিন এবং খালাসের পর লোড করতেই আরো চার-পাঁচ দিন লেগে যাচ্ছে। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধস নামছে। হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী অদক্ষ ঠিকাদার পরিবর্তনের জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, সমস্যা নিরসনে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হলে পণ্য খালাসে গতিশীলতা ফিরে আসবে।



