নয়া দিগন্ত ডেস্ক
রাজধানীর গুলশানের আবাসিক এলাকায় অবৈধ রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আবারো অভিযান শুরুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছে নিয়মিত ও কঠোর উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
গুলশানের একাধিক আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও রাজউক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বেশ কয়েকটি অবৈধ রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছিল। তবে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান আবার চালু হয়েছে, পাশাপাশি নতুন করে কিছু বাণিজ্যিক কার্যক্রমও গড়ে উঠেছে। এসব ভবনের অধিকাংশই কেবল আবাসিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ছিল।
বাসিন্দারা জানান, অবৈধ রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ফলে এলাকায় যানজট বেড়েছে, সৃষ্টি হচ্ছে শব্দদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্কট। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে সরু আবাসিক সড়কে রেস্টুরেন্টের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার এবং অতিরিক্ত মানুষের যাতায়াত বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এসব ভবন আবাসিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত। এখানে রেস্টুরেন্ট বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো আইনবিরোধী। পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতার ঘাটতি রয়েছে। তারা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ভূমিকা পালন করছে না।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজউক গুলশান এলাকায় একাধিক মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে ‘জোনিং আইন’ লঙ্ঘনের দায়ে কয়েকটি অবৈধ রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছিল। তবে স্থায়ী নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান আবারো কার্যক্রম শুরু করেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এ ধরনের অপরিকল্পিত বাণিজ্যিকায়ন ‘ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)’-এর পরিপন্থী এবং পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার পরিবেশ ও বসবাসের মান নষ্ট করছে। পাশাপাশি এটি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবাসিক ভবনে অবৈধ বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। তারা সতর্ক করে বলেন, আবার আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক সিলগালা নয়- নিয়মিত অভিযান ও স্থায়ীভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গুলশান তার আবাসিক পরিচয়, পরিচ্ছন্নতা ও ঝুঁকিমুক্ত বসবাসের উপযোগী নান্দনিক পরিবেশ ফিরে পায়।



