ছাত্রদলের নতুন কমিটি আসছে আলোচনায় যারা

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হতাশাজনক ফলসহ নানাবিধ কারণে সমালোচনার মুখে থাকা সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন নেতারা তৎপরতাও শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে দলের ভেতরে-বাইরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নানা গুঞ্জন আসছে।

দলীয় সূত্র বলছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে সামনে এসেছে। সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ভূমিকা রাখা নেতাদেরই নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব পাবেন সে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আলোচনায় যারা

ছাত্রদলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৯-১০ থেকে ২০১১-১২ সেশনের মধ্যেই নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

২০০৮-০৯ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল। এ ছাড়া একই সেশনের মনজরুল আলম রিয়াদ ও ইজাজুল কবির রুয়েল, শাফি ইসলাম আলোচনায় আছেন।

২০০৯-১০ সেশন থেকে নেতৃত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রদলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মো: আদনান। তার পাশাপাশি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো: কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান রনি, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ আলোচনায় রয়েছেন।

এ দিকে ২০১০-১১ সেশনের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি শাখার ১ নম্বর সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক। আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ।

এ ছাড়া ২০১১-১২ সেশনের নেতাদের মধ্য থেকেও অনেক আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কেন্দ্রীয় সংসদের রাজু আহমেদ, নাছির উদ্দিন শাওন, গাজী সাদ্দাম হোসেন, তারেক হাসান মামুন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, সাইদুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল,মাহমুদ ইসলাম কাজল ও শামিম আকতার শুভ।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মো: আদনান, মমিনুল ইসলাম জিসান।

এ ছাড়াও সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভীর সাথে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এ ছাড়াও এগিয়ে আছেন আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও গাজী মো: সাদ্দাম ।

আলোচিত এই নেতারা বলেন, নতুন কমিটি গঠন একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। অতীতে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও সন্তুষ্ট হবেন। সংগঠন ও সাংগঠনিক অভিভাবক চাইলে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব।

তারা বলেন, দুই বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন কমিটি হবে। সংগঠনের গতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও এটি প্রয়োজন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটিই সবাই মেনে নেবেন।

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটিও অনুমোদন করা হয়। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে।