৩০০ প্রকাশক বর্জন করবেন

বইমেলা শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি

আবুল কালাম
Printed Edition

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একুশে বইমেলা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। রমজানের অজুহাতে মেলার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া প্রকাশকরা অংশ না নিলেও মেলার তারিখ পেছানো হবে না।

গতকাল রোববার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা যায় সময় ঘনিয়ে আসার সাথে মেলা প্রস্তুতির প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত। একাধিক স্টলে চলছে সাজসজ্জার কাজ। অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নে শ্রমিকরা বিরতিহীন কাজ করছেন। কোথায় চলছে রঙব্রাশের মাখামাখি। এভাবে করে পুরো উদ্যান মাঠে চলছে হাতুড়ি- পেরেকের ঠোকাঠুকি।

রেওয়াজ অনুযায়ী বইমেলা হওয়ার কথা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে তা পরিবর্তন করে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয় বাংলা একাডেমি। কিন্তু হঠাৎ বেঁকে বসেন বেশির ভাগ প্রকাশক। তারা মেলার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানালে তা উপেক্ষা করে চূড়ান্তু প্রস্তুতি সম্পন্ন করে মেলা আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। অব্যাহত রাখে স্টল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। তবে এরই মধ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা অনুষ্ঠানে অনিশ্চয়তার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।

বিশিষ্ট প্রকাশক, লেখক উৎস প্রকাশন-এর স্বত্বাধিকারী মোস্তফা সেলিম গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, করোনায় যে লোকশান হয়েছে তা এখনো প্রকাশকরা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তারপর এবার যদি রমজানে মেলা হয় তবে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। কারণ সারাদিন রোজা রেখে কেউ দিনের বেলা যেমন মেলায় আসবে না তেমনি ইফতার শেষেও পাঠক সমাগম হবে না। ফলে প্রতিদিন স্টলে লোকশান গুনতে হবে। এই আশঙ্কা থেকেই তারা মেলার তারিখ পেছানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারপরও যদি বাংলা একাডেমি মেলা করতে চায় তবে প্রায় সাড়ে ৩ শ’ প্রকাশক মেলায় অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকবেন। এতে করে হয়তো নিয়ম পালন হবে কিন্তু মেলায় ব্যবসা আর প্রাণ থাকবে না।

এর আগে শনিবার প্রকাশকদের একাংশ মেলার তারিখ পরিবর্তনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চান। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বাংলা একাডেমি বৈঠকে বসে। একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে পুস্তক প্রকাশক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাদশা উপস্থিত ছিলেন। বিরাজমান পরিস্থিতিতে বাদশা বৈঠকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছেন। তিনি বাদশাকে বিষয়টি সুরাহার দায়িত্ব দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আজ তিনি মেলার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া প্রকাশকদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। তাতে যদি সেই প্রকাশকরা সুরাহায় না আসেন তবুও যথাসময়ে মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাদশা গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, যথাসময়ে মেলা হবে। তার ভাষ্য, এখন না হলে মেলা আর সম্ভব হবে না। তাই সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষের প্রকাশকদের নিয়ে আজ তিনি বৈঠকে আলোচনায় তার সমাধান হবে। যার মাধ্যমে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাদশা গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, যথাসময়ে মেলা হবে। তার ভাষ্য প্রকাশকরা রমজানে মেলা না করার যে অজুহাত দেখাচ্ছেন তা মেনে নিলে আগামী কয়েক বছর রমজানেই মেলা হবে। তখন তারা কিভাবে অংশ নেবেন। তাই এই রমজান অজুহাতে মেলা পেছানো যুক্তিসঙ্গত হবে না।