রফিকুল হায়দার ফরহাদ
এবারের নারী ফুটবল লিগ খুব সংক্ষিপ্ত আকারে হচ্ছে। মাত্র এক মাসেই ১১ দলের লিগ শেষ করতে হবে। এ লিগে ফুটবলাররা পুল প্রথায় পড়ায় লিগটি জমজমাট হবে। সে সাথে এবারের লিগের অন্যতম আকর্ষণ দুই রাকসু এবং ডাকসুর হল সংসদের নেত্রী খেলবেন লিগে। রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক নার্গিস খাতুন এবং ডাকসুর বেগম ফজিলাতুন্ননেসা হলের আউট ডোর ক্রীড়া সম্পাদক রেহেনা আক্তার। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে পড়ছেন ঝালকাঠির মেয়ে রেহেনা। আর নার্গিস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পড়ছেন। সিনিয়র জাতীয় দলের খেলোয়াড় নার্গিস ভোটে জিতলেও রেহেনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছেন। এটাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে রেকর্ড বলে দাবি করলেন রেহেনা। আজ তাদের খেলা।
ফুটবলার কোটায় বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া তাদের। যেহেতু রক্তে ফুটবল তাই রাকসু এবং ডাকসুর হল সংসদের নেত্রী হয়েও ফুটবল ভুলতে পারেননি নার্গিস ও রেহেনা। তাই এবারের লিগে খেলার জন্য যোগ দিয়েছেন বিগ বাজেটের দল রাজশাহী স্টারসে। রাজশাহীর মেয়ে নার্গিস। তাই জেলার নাম ব্যবহার করা দলের টানে সে দলেই খেলতে যাচ্ছেন তিনি। লিগে খেলতে গেলে রাকসুতে দায়িত্ব পালনে সমস্যা হকে কি না। জাতীয় দলের সাবেক এ ডিফেন্ডারের বক্তব্য, আমি রাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি। যেহেতু এক মাসের লিগ তাই খেলতে এসেছি। আমার অনুপস্থিতিতে যে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আছেন তিনি কাজগুলো করবেন। তা ছাড়া এখনতো ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল যুগ। এতে অনেক কাজ করাই সহজ হয়ে যায়।
নার্গিস ২০১৫ সালে প্রথম বাংলাদেশ দলে ডাক পান। তখন নেপালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৪ এএফসি রিজিওনাল ফুটবলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ওটিই ছিল বাংলাদেশের নারী ফুটবলে প্রথম শিরোপা। ফাইনালের আগে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। হাজার হাজার মানুষ তখন নিহত হয়। বাংলাদেশ দলও তখন নেপাল অবস্থান করছিল। নার্গিসের কাছে সে আসরই স্মরণীয়। এরপর তিনি অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং সিনিয়র জাতীয় দলে খেলেছেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ দল সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়। এর ঠিক আগেই জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার চাপের কারণেই আমি খেলা জাতীয় দলের ক্যাম্পে আর থাকতে পারিনি। ঢাকায় ক্যাম্প আর রাজশাহীতে গিয়ে ক্লাস করা, একসাথে দুটি অব্যাহত রাখা একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার ছিল।’ লিগে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড় ছিলেন। গত বছর অবশ্য লিগে খেলেননি।
ছোটখাটো গড়নের মেয়ে রেহেনা সিনিয়র জাতীয় দলে খেলতে পারেননি। তবে সব বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছেন। এর মধ্যে তার স্মরণীয় ২০২১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ। সে আসরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। রেহেনা অবশ্য গত লিগের খেলেছিলেন।



