ঢাকা-৮ জাতীয় সংসদের ১৮১ নং আসন। আসনটি মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা নিয়ে গঠিত যার অধীনে রয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ০৮, ০৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ড। এই এলাকাটিকে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস। ১৯৯০-১৯৯৪ অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মির্জা আব্বাস ২০০১-২০০৬ বিএনপির শাসনামলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করা হচ্ছে ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাওয়ারীকে। এই আসনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গতকাল নয়া দিগন্তের মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীর্ষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস।
নয়া দিগন্ত : আপনার এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো কি?
মির্জা আব্বাস : আমার এলাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্যাস সঙ্কট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট। বিশেষ করে গ্যাসের সমস্যার কারণে আমার এলাকার মা-বোনদের অনেক কষ্ট করতে হয়। ইনশা আল্লাহ আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।
নয়া দিগন্ত : এই এলাকার যানজট নিরসনে আপনি কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?
মির্জা আব্বাস : সময় যাচ্ছে আর রাজধানীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে পরিমাণ যানবাহন বেড়েছে তার জন্য পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। তাই রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করার ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে যানজট নিরসনে কাজ করব।
নয়া দিগন্ত : আপনার নির্বাচনী আসন একটি বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে বহু ব্যাংক-বীমাসহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠে থাকে। এই সমস্যা সমাধানে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?
মির্জা আব্বাস : গত ১৭ বছরে আমার নির্বাচনী এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচিত হলে এলাকাকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত করব। এসব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
নয়া দিগন্ত : এলাকার যুবকদের জন্য আপনার কী ম্যাসেজ থাকবে?
মির্জা আব্বাস : যুবকদের প্রতি আহ্বান জানাব ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কর্ণধার হিসেবে তারা যেন কর্মমুখী শিক্ষার দিকে ধাবিত হয়। একটি সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সহযোগিতা করে।
নয়া দিগন্ত : আপনার এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নিবেন?
মির্জা আব্বাস : এক কথায় শিক্ষাবান্ধব এলাকা বিনির্মাণে আমি কাজ করব।
নয়া দিগন্ত : কেমন নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন?
মির্জা আব্বাস : একটি অবাধ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। জনগণ দীর্ঘ সময় ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা প্রত্যাশা করি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের হারানো সেই অধিকার ফিরে পাবে। তবে কেন যেন মনে হচ্ছে একটি পক্ষ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে। তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
নয়া দিগন্ত : জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
মির্জা আব্বাস : দীর্ঘ সময় আমি এ অঞ্চলের মানুষের সাথে কাজ করেছি। এ অঞ্চলে আমার বাপ-দাদার বাড়ি। এরা সবাই আমার আত্মার আত্মীয়। ইনশাআল্লাহ আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
প্রসঙ্গত : ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন, নারী ভোটার এক লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন। আসনটিতে বিভিন্ন দলের মোট ১১জন প্রার্থী।



