বাজেটের প্রভাব নেই নিত্যপণ্যের বাজারে

দাম বেড়েছে চাল ও মুরগির

শামছুল ইসলাম
Printed Edition

নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে হাঁপিয়ে ওঠে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ। এসব মানুষের কথা বিবেচনা করে নিত্যপণ্যে কর ছাড় দেয়ার প্রস্তাব করে সরকার। তবে কর ছাড়ের প্রভাব নেই বাজারগুলোতে। বাজেট ঘোষণার পর কাচা মরিচ ছাড়া আর কোনো পণ্যের দাম কমেনি। উল্টো বেড়ে গেছে চাল ও ব্রয়লার মুরগির দাম। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দেয়া ঢাকা মহানগরীর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা বাজারদরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

টিসিবির তথ্যে দেখা গেছে, বাজেট প্রস্তাবনার আগের দিন ১০ জুন বুধবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মোটা চাল (স্বর্ণা/চায়না/ইরি) বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা দরে। বাজেট প্রস্তাবনার পরে গতকাল শনিবার এই চাল বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা কেজি দরে। মাঝারি মানের চাল (পাইজাম/আটাশ) বাজেটের আগে বিক্রি হয়েছে ৫৪ টাকা কেজি দরে। গতকাল এই চাল বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা কেজি। স্বল্প আয়ের মানুষের আমিষের চাহিদা জোগানের প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। বাজেটের আগে এই পণ্যটির দাম ছিল প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। গতকাল এই ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা কেজি দরে।

টিসিবির দেয়া তালিকার ৫৭টি পণ্যের মধ্যে চাল ও মুরগীর দাম বাড়লেও কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। এই পণ্যটি বাজেটের আগের দিন বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি দরে। গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে এই পণ্য বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বাকি ৫৪টি পণ্য আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে। বাজেটে শুল্ক বাড়ানো পণ্যগুলোর দাম ইতোমধ্যে বেড়ে গেলেও শুল্ক কমানো পণ্যের দাম কমেনি।

বাজারের ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহ থেকে বাজারের পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজেট ঘোষণার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো মূল্য পরিবর্তন চোখে পড়েনি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার কারণে এখনো কোনো পণ্যের দামে পরিবর্তন আসেনি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যে দামে পণ্য দিচ্ছে, সে অনুযায়ী বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার পর সাধারণত অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে কিছুটা সময় লাগে। ফলে এখনই বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন না দেখা গেলেও আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা। তবে আপাতত রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরেনি।

এ দিকে বাজেট প্রস্তাবে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের ওপর দশমিক ২ শতাংশ হারে অগ্রিম কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রতি এক হাজার টাকায় ২ টাকা অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে। এতে নিত্যপণ্যের দাম কমা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ হতে হ্রাস করে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। এ ছাড়া আমদানি করা শিশুখাদ্য তৈরির সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে (শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে)। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে। জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অন্য দিকে করের আওতা সম্প্রসারণের জন্য এবারের বাজেটে খুচরা ব্যবসায়ীদের এবারই প্রথম করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। বাজেট প্রস্তাবে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের ওপর দশমিক ২ শতাংশ হারে অগ্রিম কর আরোপে কথা বলা হয়েছে। এতে প্রতি এক হাজার টাকায় দুই টাকা অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য করের হার বৃদ্ধি নয়; বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ। এই উদ্দেশ্যে কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহে দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করছি। সংগৃহীত এই অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য, প্রতি এক হাজার টাকায় মাত্র দুই টাকা। এতে দেশের লাখ লাখ খুচরা ব্যবসায়ীর ওপর করের বোঝা চাপতে পারে। পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।