উৎপাদন খরচও উঠছে না

পেঁয়াজ বিক্রি করে লোকসানের মুখে নগরকান্দার চাষিরা

Printed Edition

কাজী আফতাব হোসেন নগরকান্দা (ফরিদপুর)

ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের বাজারদর নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অর্ধেকেরও কম হওয়ায় অধিকাংশ চাষি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাদের অনেকেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে দেড় হাজার টাকারও বেশি। ফলে প্রতি মণেই গুনতে হচ্ছে কয়েক শ’ টাকা লোকসান।

কৃষকরা বলছেন, ডিজেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও সে অনুযায়ী বাড়েনি পেঁয়াজের দাম। তাদের দাবি, এখন এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কেজি গরুর গোশত কেনার মতো অর্থ হাতে থাকে না।

আরো বড় সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে সংরক্ষণ সুবিধার অভাব। পর্যাপ্ত হিমাগার বা আধুনিক গুদাম না থাকায় কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, উৎপাদনব্যয় তুলতে না পারলে এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব না হলে আগামী মৌসুমে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

নগরকান্দার পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আফসার ব্যাপারী বলেন, এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রচুর পেঁয়াজ বাজারে আসছে। সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারদর কমে গেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় আরো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো: শাহাদুজ্জামান বলেন, বাজারমূল্য নির্ধারণ কৃষি বিভাগের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের সুবিধা বাড়াতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক হাজার ৪৩০টি এবং চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৭০০টি এয়ারফ্লো মেশিন কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ বছর মোট দুই হাজার ৫০০টি এয়ারফ্লো মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।