ক্রীড়া প্রতিবেদক
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং করছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ১৯ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১২৮ রান ঢাকার। শেষ ওভারে বল হাতে রিপন মণ্ডল। ওভারের শেষ তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের মধ্য দিয়ে শেষ করলেন ২২ বছর বয়সী ডানহাতি এই পেসার। সাব্বির রহমান ও জিয়াউর রহমানকে ক্যাচআউট করে ফেরালেও তাইজুল ইসলামকে সরাসরি বোল্ড করেন রিপন। নির্ধারিত ওভারের শেষ বলে উইকেট হারিয়ে ঢাকা অলআউট হয় ১৩১ রানে। লক্ষ্য তাড়ায় ২৩ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় পায় রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরুটা কী দারুণই না করেছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫৪ রান। সপ্তম ওভারে বোলিং এসেই আবদুল গাফফার সাকলাইন ২ উইকেট নেয়ার পর নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। শেষ ১৪ ওভারে ৬৭ রান তুলতে ১০ হারিয়েছে উইকেট। ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেছেন পাকিস্তানি ওপেনার উসমান খান। সাকলাইন ৪টি, রিপন ৩টি, রুবেল ২টি ও একটি উইকেট নেন বিনুরা ফার্নান্দো।
ছোট লক্ষ্যকে তাড়া করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় রাজশাহী। উইকেটে এসে ৫ রানেই থেমে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। দলীয় ১১৫ রানে যখন তানজিদ হাসান আউট হন, তখন রাজশাহীর জয়টা ছিল সময়ের ব্যাপার। ৪৩ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৭৬ রান করেন এই ওপেনার। বাকি কাজটুকু সারেন মুশফিকুর রহীম ১২ ও ১৪ রানে অপরাজিত থেকে জেমস নিশাম। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে সিলেট পর্ব শেষ করল রাজশাহী।
হ্যাটট্রিক হারের তেঁতো স্বাদ রংপুরের
এটাই ক্রিকেট। অনিশ্চয়তায় ভরপুর। টুর্নামেন্টের প্রথম অংশটা দারুণ ছিল রংপুর রাইডার্সের। প্রথম পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই জয়। নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বাধীন দলটির হঠাৎ করেই ছন্দপতন। সিলেট স্টেডিয়ামে গতকাল রংপুর রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স। ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সেরও পয়েন্ট ১০। তবে +০.৮৯৮ নেট রানরেটে শীর্ষে চট্টগ্রাম। দুই ও তিনে থাকা সিলেট ও রাজশাহীর নেট রানরেট +০.৪৪৯ ও +০.১৯৪।
সবশেষ গত সোমবার চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতেছিল রাইডার্সরা। এই সিলেটেই এরপর নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কাছে হেরেছিল ৯ রানে। নোয়াখালীর বিপক্ষে ১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারেনি। এরপর গত পরশু রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে ৭ উইকেটে হারের পর গতকাল সিলেটের কাছে পাত্তাই পায়নি। স্বাগতিকদের কাছে হেরেছে ৬ উইকেটে।
১১৫ রানের লক্ষ্যে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করে সিলেট টাইটান্স। পাওয়ার প্লেতে (প্রথম ৬ ওভার) কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৩ রান করে স্বাগতিকরা। সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে রংপুরের চায়নাম্যান বোলার সুফিয়ান মুকিমকে স্লগ সুইপ করতে যান তৌফিক খান তুষার (২২ বলে ৩৩)। এজ হওয়া বল প্রথম স্লিপে সহজেই তালুবন্দী করেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
৫৪ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর আরিফুল ইসলাম বেশিক্ষণ উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি (২৬ বলে ২১)। ৮৪ রানে ২ উইকেট হারানো সিলেটের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে যাবে দলটি। আফিফকে (১২) ফেরানোর পরের বলেই ইথান ব্রুকসকে (০) বোল্ড করেন নাহিদ রানা। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে ইফতেখানকে ছক্কা মেরে খেলা শেষ করেন পারভেজ হোসেন ইমন (৪১ বলে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৫২*)।
টস আগে ব্যাটিং পাওয়া রংপুর রাইডার্সের স্কোর এক পর্যায়ে ছিল ১৬.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ৯৬ রান। ১০০ রানের আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হলেও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সেটা হতে দেননি। সাত নম্বরে নেমে ২৩ বলে ৪ চারে করেন ২৯ রান। ২০তম ওভারের প্রথম বলে মাহমুদুল্লাহকে ফিরিয়ে রংপুর রাইডার্সের ইনিংসের ইতি টানেন সালমান ইরশাদ। ১৯.১ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর। রংপুরের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন খুশদিল শাহ। সিলেটের নাসুম আহমেদ, শহীদুল ইসলাম নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। নাসুম ৪ ওভারে ১৯ রানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। কিপটে বোলিংয়ে মঈন আলী ৮ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। ম্যাচসেরা নাসুম আহমেদ।



