নাটোর জেলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২৮ জন প্রার্থী। প্রার্থীদের জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে বিএনপি নেতা এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ছাড়া আর কেউ-ই ইতঃপূর্ব জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হননি। এ ছাড়া পাঁচজন ব্যতীত বাকি ২৩ জনই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় বৈচিত্র্য থাকলেও অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত। মাত্র একজন অষ্টম শ্রেণী পাস এবং তিনজন মাধ্যমিক পাস। বাকিরা সবাই কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রিধারী। প্রার্থীদের মধ্যে ডক্টরেট ডিগ্রিধারীও রয়েছেন। পেশাগত দিক থেকে অধ্যাপক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা হলেন- নাটোর-২ আসনের এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মো: ইউনুস আলী, নাটোর-১ আসনের আনসার আলী এবং নাটোর-৩ আসনের দাউদার মাহমুদ।
নাটোর-১ আসনে প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক স্বর্ণের মালিক বিএনপি নেতা ও চিকিৎসক মোহাম্মদ ইয়াসিন আরশাদ রাজন। তিনি হলফনামায় ১২০ ভরি স্বর্ণের মালিকানা উল্লেখ করেছেন, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। ঢাকায় তার দু’টি বাড়ি ও সাভারে জমিসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। একই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের হাতে নগদ রয়েছে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং তার সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। অপর দিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর নিজের তুলনায় বেশি টাকা তার স্ত্রীর কাছে নগদ ও ব্যাংকে রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা ও সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন নাটোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। দুলুর নগদ অর্থ এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা ছাড়াও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় সাত কোটি ৬২ লাখ টাকা। তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবির সম্পদের পরিমাণ আট কোটির বেশি। এই দম্পতি চলতি অর্থবছরে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র দুলুরই বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন প্রার্থীই কোটিপতি। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের প্রত্যেকেরই এক কোটি টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা তুলনামূলক কম। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো: আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকলেও তা নিষ্পত্তি হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে থাকা তিনটি মামলার মধ্যে দু’টি স্থগিত এবং একটি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।।



