লালমনিরহাটে পুরাতন শীতবস্ত্র বিক্রি করে জীবিকা হাজারো মানুষের

সাব্বির আহমেদ লাভলু, লালমনিরহাট
Printed Edition

হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা লালমনিরহাটে আগেই নেমে এসেছে শীতের হাড় কাঁপনো বাতাস। তিস্তা তীরবর্তী জেলা হওয়ায় প্রতি বছরই শীতের তীব্রতা একটু বেশিই থাকে এ অঞ্চলে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে লালমনিরহাটে জমে উঠেছে পুরাতন শীতবস্ত্রের বাজার। সরগরম হয়ে উঠছে হাট-বাজার, রেলস্টেশন ও বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কগুলোর ফুটপাথ।

জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ ও পাটগ্রাম উপজেলায় পুরাতন জ্যাকেট, সোয়েটার, কম্বল, কোট, মাফলার, গ্লাভসের দোকানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। কম দামে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায় বলে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষই নয়, সচ্ছল ক্রেতারাও এসব দোকানে আসছেন। পুরাতন কাপড়ের বাজার এখন সব শ্রেণীর মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়। এ মৌসুমে পুরাতন কাপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন লালমনিরহাটের কয়েক হাজার মৌসুমি ব্যবসায়ী। শীতকালজুড়ে ফুটপাথ, রেলস্টেশন, হাট ও বাজারে এসব দোকান বসান তারা, যা বহু পরিবারের মৌসুমি আয়ের একটি ভালো উৎস। আদিতমারী রেলস্টেশনের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, প্রতি বছর শীতে সৈয়দপুর ও ঢাকা থেকে মানসম্মত কাপড় এনে বিক্রি করি। গুণগত মান ভালো হওয়ায় জেলার দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা ছুটে আসেন এখানে। প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। শুধু গরিবরাই নয়, অনেক সচ্ছল মানুষও এখান থেকে পুরাতন কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, শহরটি তিস্তা নদীর পাশে হওয়ায় হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা দ্রুত বেড়ে যায় এ নগরীতে। অক্টোবরের শেষ দিকে শুরু হওয়া শীত থাকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত। নিম্ন আয়ের মানুষদের এ সময়ে ভীষণ কষ্ট করতে হয়। তাই, তাদের কাছে কম দামের এবং কিছুটা ভালো মানের পুরাতন কাপড়ই বেশি পছন্দের।

কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শীত আরো বাড়তে পারে। গত সপ্তাহে লালমনিরহাটের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.ুু৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি সপ্তাহে তা ১৪ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরো কমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।