‘নো বোট, নো ভোট’ পলিসিতে আ’লীগ

শেষ মুহূর্তে গিয়ে ‘নো বোট, নো ভোট’ পলিসিতে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে নির্বাচন বানচালের ছক বাস্তবায়ন করতে না পারায় মূলত দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী এমন পলিসি নিয়ে কাজ করছেন পতিত দলটির শীর্ষ নেতারা। দিল্লিসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলটির তরফ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এমন ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে।

মনিরুল ইসলাম রোহান
Printed Edition

নির্বাচনী উত্তাপ এখন তুঙ্গে। কার ভোট কোথায় যাচ্ছে, কোন লেভেলে খেলা চলছে, কোন দল ক্ষমতায় বসছে- এসব আলোচনা এখন চায়ের টেবিলে ঝড় তুলছে। ভোটাররা যেমন ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের পছন্দের মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, তেমনিভাবে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিএনপি জোট এবং জামায়াত জোট নানা কৌশল গ্রহণ করছে। এরই মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগও দিল্লিতে বসে তাদের নির্বাচনী কৌশল পরিবর্তন করেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শেষ মুহূর্তে গিয়ে ‘নো বোট, নো ভোট’ পলিসিতে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে নির্বাচন বানচালের ছক বাস্তবায়ন করতে না পারায় মূলত দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী এমন পলিসি নিয়ে কাজ করছেন পতিত দলটির শীর্ষ নেতারা। দিল্লিসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলটির তরফ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এমন ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দলটির প্রধানের এ বার্তা দলের বিভিন্ন গ্রুপে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা তাদের নেতাকর্মীরা যাতে সহজে দলীয় প্রধানের নির্দেশনা পেয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকে এবং নির্বাচনে একেবারে কম ভোট পড়ে। সূত্র আরো বলছে, ‘নো বোট, নো ভোট’ পলিসি অনুযায়ী বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বনি¤œ ভোট কাস্ট করানোর বিষয়ে জোরালো তৎপরতা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, দেশের ইতিহাসে একেবারে সর্বনিম্ন কম ভোট কাস্ট হলে আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক বিশ্বকে দেখাতে সক্ষম হবে যে, তারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো প্রাসঙ্গিক, তারা যে জনসমর্থনের তথ্যগুলো তুলে ধরছে এক দিকে সঠিক প্রমাণ করাও যাবে। অন্য দিকে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বলতে পারা যাবে- আওয়ামী লীগকে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করানো হয়েছে। এ দেশের মানুষ এখনো আওয়ামী লীগকে চায়। তাদের এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। এমনকি নির্বাচনের পরে আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সংগঠনকে দিয়ে নির্বাচিত সরকারকে তাদের পুনর্বাসনের জন্য চাপ প্রয়োগ করাটাও অনেকটা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী, এ দেশে তাদের সমর্থনের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন- ‘আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম দল। তাদের ভোট শেয়ার ৪০-৫০ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের দেশে ছয়-সাত কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক।’ নির্ভরযোগ্য সূত্র এও বলছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের এ দাবিকে সত্য প্রমাণিত করতে হলে ‘নো বোট, নো ভোট’ পলিসির বিকল্প দেখছে না ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। তাদের এই পলিসির পেছনে কয়েকটি শক্ত যুক্তির মধ্যে একটি তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে তা হলো- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে নৌকা নাই, তাই ভোটও নাই। তা ছাড়া দলটির তরফ থেকে আরেকটি শক্ত যুক্তি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে কৌশলে তুলে ধরা হচ্ছে তা হলো- আওয়ামী লীগকে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করে শেখ হাসিনাকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, তিনি এখন ভারতে, দলটির সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ড. আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খানসহ শীর্ষ নেতাদের অনেকেই কারাগারে রয়েছেন, যার ফলে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের অংশ হিসেবে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদেরও এসব বার্তা কৌশলে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। যদিও আওয়ামী লীগের ভোট দেশের বড় একটি দল প্রত্যাশ্যা করছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সেটাই প্রচার করা হচ্ছে। শেষমেশ আওয়ামী লীগের এমন কৌশলী সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নেয়া ওই বড় দলটির আশা ফিকে হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে পতিত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন লিখেন- ‘নো বোট, নো ভোট’। গত রোববার বিকেলে পুরানা পল্টন মোড়ে চায়ের দোকানে কথা হয় একজনের সাথে। তার বাড়ি কক্সবাজারে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তার পরিবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে বাড়িতে যাওয়ার কথা বললে তিনি জানান, ব্যালটে নৌকা নাই, ভোটও নাই। এ সময় তিনি ভোট দিতে বাড়িতে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পতিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সহ স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সামিউল বাসীর বিন সামি বলেন, নেত্রীর নির্দেশ ভোট কেন্দ্রে যাবো না, ভোটও দেবো না। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: মিরাজ হোসেন বলেন, ভোট দিতে যাওয়া তা ঝুঁকিপূর্ণ। কখন কী হয় বলা তো যায় না! এ জন্য ভোট দিতে যাব না।