অনুমতি ছাড়া আবারো দেশে আসছেন ভারতীয় চিকিৎসক

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে অভিযোগ বিএমডিসির

Printed Edition

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশে চিকিৎসা দিতে আসার অভিযোগ উঠেছে ভারতের তামিলনাড়ুর চিকিৎসক ডা: ভাদিনগাড়ু মুনাস্বামী থমাসের বিরুদ্ধে। আগামী ২১ ও ২২ আগস্ট ঢাকার একটি চেম্বারে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএমডিসি। সংস্থাটির অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার সতর্ক করার পরও ওই চিকিৎসক বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়েছেন। এবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছে বিএমডিসি। একইসাথে অনুমোদনহীন আন্তঃসীমান্ত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। বিএমডিসির অভিযোগ, বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠী ওই চিকিৎসককে বিভিন্ন সময় দেশে এনে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা: লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক ডা: মুনাস্বামী থমাস দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে এসে বিএমডিসির অনুমতি ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় চিকিৎসা কাউন্সিলের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএমডিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিবন্ধন ছাড়া এলোপ্যাথি চিকিৎসা দেয়া আইনত নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ৬১ ধারা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা করা অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। বিএমডিসির তথ্য অনুযায়ী, ডা: মুনাস্বামী থমাস এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ থেকে ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামে চিকিৎসা দিয়েছেন। ২০২৫ সালে ঢাকার বসুন্ধরায় রোগী দেখার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও বিএমডিসির উদ্যোগে তা বন্ধ করা হয়। ওই সময় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভাটারা থানায় অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা বলছেন, অনুমোদন ছাড়া বিদেশী চিকিৎসকদের বাংলাদেশে এনে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, বিদেশী চিকিৎসকেরা কেউ প্রযুক্তি হস্তান্তরের নামে, আবার কেউ ভিজিট ভিসায় এসে বিভিন্নভাবে চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন। এদিকে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী ভারতে যান। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এ খাতে বছরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা ভারতে চলে যায়। একই সময়ে অনুমোদন ছাড়া বিদেশী চিকিৎসকদের দেশে এসে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি চিকিৎসা খাতের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।