ইসরাইল-আমিরাত বিশাল সমরাস্ত্র চুক্তির নথি ফাঁস

Printed Edition

দ্য নিউ আরব

২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সামরিক অংশীদারিত্ব অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া গোপন নথিপত্রে বেরিয়ে এসেছে। হাউসি বাহিনীর সম্ভাব্য ড্রোন হামলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম তৈরি প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে শত কোটি ডলারের চালকবিহীন বিমান ও উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

ইসরাইলি গণমাধ্যম হাআরেৎজের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি আবুধাবিতে হাউছিদের বিমান হামলায় তিনজন নিহত হলে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে চলে আসে। এরপরই ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সরঞ্জাম সরবরাহের আবেদন জানানো হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৮ কোটি ডলারে ৬টি ‘হার্মিস ৯০০’ ড্রোন ও আনুষঙ্গিক কন্ট্রোল স্টেশন বিক্রির কথা থাকলেও, পরবর্তীতে আমিরাত ৪৫টি ড্রোনসহ ১৫টি আধুনিক ব্যবস্থার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩০ কোটি ডলার। ফাঁস হওয়া ওই নথিতে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত সঙ্কেতভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সাইবার যুদ্ধ পরিচালনা ও ইলেকট্রনিক নজরদারিতে সক্ষম চারটি বিশেষায়িত বিমান সংগ্রহেও উৎসুক ছিল। এর পাশাপাশি মাত্র তিন মাসের মধ্যে ছয় হাজার খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির ‘জাসমিন ৩’ নামের এক চরম গোপনীয় প্রকল্পের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যা প্রধানত ড্রোন কিংবা দূরনিয়ন্ত্রিত বোমায় ব্যবহারের উপযোগী। এলবিট সিস্টেমস ২০২৩ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আনার আগেই ‘হার্মিস ৬৫০’ ড্রোন আমিরাতকে বিক্রির প্রস্তাব দেয় এবং এর কিছু যন্ত্রাংশ আমিরাতের মাটিতেই তৈরির সুযোগ দেয়ার কথা জানায়।

তবে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের গোপনীয় নথির নিরাপত্তায় মারাত্মক অবহেলার চিত্র ধরা পড়েছে। এলবিটের প্রধান নির্বাহী বেজালেল মাচলিসসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা প্রাতিষ্ঠানিক ও সুরক্ষিত সংযোগ ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত জিমেইল হিসাবের মাধ্যমে এসব অতিসংবেদনশীল বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত একদল হ্যাকার ওই জি-মেইল অ্যাকাউন্ট ভেঙে গোপন তথ্যগুলো ইন্টারনেটে উন্মুক্ত করে দেয়। এ দিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক খবরে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিলেও, আমিরাত ও ইসরাইল গোপনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে চাপ সৃষ্টি করছিল। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এলবিট কোম্পানি আমিরাতের জ্বালানিবাহী বিমানের সুরক্ষার জন্য পাঁচ কোটি ডলারের এক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এ ছাড়া গত নভেম্বরে বেনামে কোনো এক আন্তর্জাতিক ক্রেতার সাথে ২৩০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রির যে খবর প্রকাশ্যে এসেছিল, সেই ক্রেতা আসলে সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেই নিশ্চিত করেছে ফরাসি সাময়িকী ‘ইন্টেলিজেন্স অনলাইন’।