ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর সব প্রার্থী তাদের নির্বাচনী এলাকায় কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। বড় দলগুলো দেশব্যাপী বড় বড় জনসভা করছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ তে জনসভা করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এরপর তিনি গত দুই দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো সফর করে অনেকগুলো জনসভা করেছেন। এসব জনসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। মানুষ এবার জামায়াতকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে। বিগত সময়ের সরকারগুলোর ভুলত্রুটির কারণে এবার মানুষ একটি নতুন দলের হাতে ক্ষমতা দিতে চায়।
গত ২২ জানুয়ারি মিরপুর আদর্শ স্কুল মাঠে জনসভা করে জামায়াত। দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা এটি। সেখানে ১০ দলের নেতারাও বক্তৃতা করেন। দুপুরের আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে উঠে। পরদিন জামায়াত আমির পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে জনসভা করেন। এর প্রতিটিতেই দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। প্রতিটি জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। গতকাল একইভাবে ফিরতি পথে রংপুরে জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ডা: শফিকুর রহমান। গত তিন দিনের কর্মসূচিতে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন মানুষকে। বিগত সময়ে বছরের পর বছর মানুষকে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়েছে। দোকানপাট, ব্যবসা থেকে সড়ক-অবকাঠামো উন্নয়ন সর্বত্র ঠিকাদারদের ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় ও জাতীয় নেতাকে চাঁদা দিয়েই তারপর কাজ করার সুযোগ পান। তিনি খুব দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সরকারে গেলে তার দল নিজেরা চাঁদাবাজি করবে না, অন্য কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেবে না। এ ছাড়া জামায়াত ক্ষমতায় গেলে একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। বেকার ভাতার পরিবর্তে বেকারদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে চায়। নারীদের যোগ্যতানুযায়ী চাকরি-ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায়। উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় টাকা চুরি ঠেকানো, বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ, বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এসব জনসভায় আসা মানুষ জামায়াত আমিরের এসব প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট। তারা বিশ^াস স্থাপন করতে শুরু করেছে যে জামায়াত আগামীতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এজন্য এসব প্রতিশ্রুতিও তারা বাস্তবায়ন করবে। তাতে দেশের বিগত সময়ের অনিয়ম-দুর্নীতি দূর হয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নœ দেখতে শুরু করেছে মানুষ।
গতকাল গাইবান্ধার জনসভায় আসা সাদুল্লাপুরের নলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ইখলাস হোসেন বলেন, বিগত সময়ে দেশে যারাই সরকারে এসেছে তারা দুর্নীতি-চাঁদাবাজি করেছে। কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা কখনো চাঁদাবাজি করে না। তারা দুর্নীতি করে না। ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের পর মানুষ একটি পরিবর্তন চাচ্ছে। সেজন্য এবার মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে। তাদেরকে একটু পরীক্ষা করতে চাচ্ছে। আসলে মানুষ শান্তি চায়। যারা শান্তি দিতে পারবে তাদেরই এবার মানুষ ভোট দেবে।
সিরাজগঞ্জের জনসভায় আসা আব্দুল হক নামে একজন বলেন, আমরা একটি পরিবর্তন চাই। আমরা আর গুম-খুন দেখতে চাই না। চাঁদাবাজি-ধর্ষণ দেখতে চাই না। সে ক্ষেত্রে জামায়াত বর্তমান সময়ে সবচেয়ে সঠিক দল। স্থানীয়ভাবে তাদের নেতাকর্মীদের আমরা কখনো মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে দেখি না। বরং বিভিন্ন বিপদে তারা মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। বিপদে যাদের পাওয়া যায় তাদেরই ক্ষমতায় আসা উচিত।
বগুড়ার জনসভায় আসা স্কুলশিক্ষক আবেদ আলী বলেন, মানুষ এখন বিশ^াস করতে শুরু করেছে জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারে। তারা দেশও চালাতে পারবে। জামায়াতের অনেক বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী লোক রয়েছে। সেজন্য মানুষ এবার জামায়াতকে ভোট দিতে চাচ্ছে। আশা করি এবার জামায়াত নির্বাচনে ভালো করবে।



