সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ

রফিকুল হায়দার ফরহাদ
Printed Edition

বৃষ্টিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। বলার সুযোগ নেই বৃষ্টির কারণে খেলার ছন্দে ছেদ পড়েছে। ম্যাচের ৬.৪ ওভার শেষে যখন বৃষ্টির কারণে খেলা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখনো চাপের মুখে বাংলাদেশ। টাইগারদের স্কোর তখন তিন উইকেটে ৫০। এরপর বিপক্ষ উইকেটরক্ষক ডিন ক্লেভারের ভুল এবং ভাগ্যের জোরে আরো কয়েকটি আউট থেকে রক্ষা। তবে যে দলের ব্যাটাররা একে একে উইকেট ছুড়ে দেয়, তাদের পক্ষে কিভাবে বিগ স্কোর সম্ভব। বৃষ্টির কারণে ২০ ওভারের ম্যাচ ১৫ ওভারে কমে আসা। কিন্তু বাংলাদেশ দল পুরো ওভার খেলতেই পারেনি। ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অল আউট। মামুলি এই সংগ্রহকে পুঁজি করতে হলে ঝড় বইয়ে দিতে হবে বোলারদের। টাইগার দলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার শরীফুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নিলেন। সাথে স্পিনার শেখ মাহেদী হাসান। দ্ইুজনে মিলে পাঁচ ওভারেই কিউইদের চার উইকেট তুলে নেন। কিন্তু এরপর যাদের দায়িত্ব সেই রিশাদ, সাইফুদ্দিন, রিপন মণ্ডলরা পারেননি ঠিকমতো বল করতে। সাথে হাফ চান্সের রান আউটগুলো মিস। এরপর দু’টি ক্যাচ হাতছাড়া। এই সবের যোগ ফলেই কাল মিরপুরে তৃতীয় টি-২০তে হেরেছে বাংলাদেশ। তাদেরকে ছয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজ ১-১-এ সমতা আনে নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশ চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টি-২০ জিতেছিল। পরেরটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় মিরপুরে কাল জিতে সিরিজ নিজেদের করার সুযোগ পেয়েছিল। তবে সম্মিলিত ব্যর্থতায় হারতে হয়েছে। আর নিউজিল্যান্ড এই স্কোর টপকাতে হাতে রাখে ৩.২ বল।

কিউইদের ইনিংসে প্রথম আঘাতটা হানেন শরীফুল। দ্বিতীয় ওভারেই এই বাঁহাতি পেসারের বলে লিটন দাসের হাতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কাটিনে ক্লার্ক। ওই ওভারের শেষ বলে আবার আঘাত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী বোলারটির। এবার তার বলে একই কায়দায় আউট ড্যান ক্লেভার। এরপর নিজের দ্বিতীয় এবং দলীয় চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই যখন স্ট্যাম্প এলোমেলো টিম রবিনসনের, তখন আশায় বুক বাঁধতে থাকে স্বাগতিক দর্শকরা। স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকরা যখন বৃষ্টিতে ভিজেও স্বপ্ন দেখছিলেন দলের জয়ের, তা আর পূরণ করতে পারেননি অপর বোলাররা। দুই ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগানো শরীফুল আর উইকেট পাননি। তবে শরীফুলের তিন ওভারের কোটা শেষ হওয়ার পর আঘাত হানেন শেখ মাহেদী। বোল্ড করে দেন নিক কেলিকে। যিনি নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক।

১৫ ওভারের ম্যাচে ১০২ রান তাড়া করতে গিয়ে একটি দল যখন পাঁচ ওভারে ৩৪ রানে চার উইকেট হারায় তখন আশাতো দেখতেই পারে সমর্থকরা। তবে আশা আর বাস্তবতার সাথে যখন মিল হয় না তখনই হারের লজ্জা পেতে হয়। বাংলাদেশ দলকে সেই লজ্জাই দিয়েছেন দুই অপরাজিত কিউই ব্যাটার বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। দলের ওই বিপদের সময় দু’জনে হাল ধরেছেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন। ফলে ওয়ানডে সিরিজে তারা হারলেও টি-২০তে সান্ত্বনার ১-১ এ সমতা নিয়ে দেশে ফিরছে। সেই সাথে দ্বিতীয় সারির দল নিয়েও তাদের এই বুক চিতিয়ে জয়।

শরীফুল ও মাহেদীর পর অভিজ্ঞ রিশাদ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া রিপন মণ্ডল আশানুরূপ বল করতে পারেননি। রিপন তার দুই ওভারে ২৭ রান দিয়েছেন লো স্কোরিং এই ম্যাচে। রিশাদের ২.৪ ওভারে কিউইরা নিয়েছে ৩১ রান। দলের হারের জন্য এই বোলিংও দায়ী।

কিউইদের দুই অপরাজিত ব্যাটারই লাইফ পেয়েছেন। ফক্সক্রফট রিটার্ন ক্যাচ দিয়েছিলেন শেখ মাহেদীকে। তবে বল তার হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। আর রিশাদের বলে ডিপ মিডঅনে ক্যাচ ছেড়ে তা ছক্কায় পরিণত করেন তানজিদ হাসান তামিম। যদিও ম্যাচ তখন নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। এর পরও দুই ক্যাচ ধরা গেলে হয়তো পাল্টে যেত চিত্র।

লাইফ পাওয়ার মাধ্যমেই হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন জাকবস। ৩১ বলে পাঁচ বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় ৬২ রান করেন তিনি। ফক্সক্রফট ১৫ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে টস হারা বাংলাদেশ দল তৌহিদ হৃদয়ের ইনিংস সেরা ৩৩ রান, লিটন দাসের ২৬ এবং সাইফ হাসানের ১৬ রানের কল্যাণে ১০০ পার করে সংগ্রহ। লিটন এক ছক্কা, তিন চারে ১৭ বলে ২৬ করেন। হৃদয়ের ইনিংসে ছিল তিনটি বাউন্ডারি ও দু’টি ছক্কা। খেলেছিলেন ২৪ বল। আর সাইফের ১১ বলের ইনিংসে ছিল দু’টি চার। অন্য ব্যাটারদের মধ্যে শুধু মাহেদীই একটি বাউন্ডারি হাঁকাতে পেরেছিলেন। কিউই বোলারদের মধ্যে ক্লার্কসন ৯ রানে তিন উইকেট পান। দু’টি করে উইকেট নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্সের। ম্যাচ সেরা হয়েছেন জ্যাকবস। আর সিরিজ সেরা তৌহিদ হৃদয়।

বাংলাদেশ ইনিংস : ১০২ ( ১৪.২ ওভার) সাইফ ১৬, তানজিদ ৬, লিটন ২৬, ইমন ০, হৃদয় ৩৩, শামীম ৩, মাহেদী ৭ অপ:, সাইফুদ্দিন ০, রিশাদ ৫, শরীফুল ২, রিপন ০; স্মিথ ২/১৪, সিয়ার্স ২/১২, লেনক্স ১/২৮, সোধি ১/২২, ক্লার্কসন ৩/৯।

নিউজিল্যান্ড ইনিংস : ১০৪/৪ (১১.৪ ওভারে) রবিনসন ২৩, ক্লার্ক ১, ক্লেভার ১, কেলী ১, জ্যাকবস ৬২ অপ:, ফক্সক্রফট ১৫ অপ:; শরীফুল ৩/১৯, মাহেদী ১/২২।

ম্যাচসেরা : বেভন জ্যাকবস।

সিরিজ সেরা : তৌহিদ হৃদয়।

সিরিজ : ১-১-এ সমতা।