- গুলির ২ দিন পর যাওয়ার কথা থাকলেও আগেই নিরুদ্দেশ ফয়সাল-আলমগীর
- ৩ দিন পর মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পরপরই আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায় উঠেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল। ব্যাগের ভেতর অস্ত্র রাখার বিষয়টি জানতেন ফয়সালের বাবা, মা, স্ত্রী ও শ্যালক। অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি ছিল ফয়সালের বাবার জিম্মায়। বাবা হুমায়ূন করিম অস্ত্রের বিষয়টি জানলেও তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন।
গত মঙ্গলবার রাতে ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা হাসি বেগমকে (৬০) এবং শ্যালক সিপুর বন্ধু মো: ফয়সালকে (২৫) গ্রেফতার করে র্যাব।
গত মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী ও মাকে জিজ্ঞাসাদের পর তারা স্বীকার করেন অস্ত্রগুলো গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর একটি পুকুরে ফেলে দেয়া হয়েছে। স্ত্রী ও মায়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে র্যাব সদস্যরা। গতকাল ফয়সালের বাবা, মা, স্ত্রী, শ্যালক ও শ্যালকের বন্ধু আরেক ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ দিকে গতকাল সন্ধ্যায় ফয়সালের বাবা, মা ও শ্যালকের বন্ধু ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মেট্্েরাপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়। র্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ওই বাসায় যাওয়ার পরই তার বাবার কাছ থেকে অস্ত্রভর্তি ব্যাগ লুকানোর জন্য প্রস্তুতি নেয় ফয়সাল। এ সময় ওই বাসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে অস্ত্রসহ ব্যাগটি রান্না ঘরের জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। পরে যখন জানতে পারেন তারা কোনো বাহিনীর নয়, দুইজন লোক বাসা ভাড়া নিতে আসেন, তখন ফয়সালের স্ত্রীর বাসার নিচে গিয়ে ব্যাগটি তারাহুড়ো করে বাসায় নিয়ে আসেন। কিন্তু তখন দুটি ম্যাগজিন ও গুলি ব্যাগ থেকে পড়ে যায়।
র্যাব সূত্র আরো জানায়, ব্যাগটিতে তখনও পাঁচটি অস্ত্র ছিল। ফয়সালের বাবার কাছেই প্রথমে ব্যাগটি চান ফয়সাল। যখন ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা দেবেন তখন নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ফয়সাল করিম ও আলমগীর শেখ দুইটি অস্ত্র সাথে নিয়ে যান। বাকি তিনটি অস্ত্র একটি ব্যাগের ভেতর ভরে শ্যালক সিপুর মাধ্যমে তার আরেক বন্ধু ফয়সালের কাছে বুঝিয়ে দেয়। ফয়সাল নরসিংদীর গ্রামের বাড়ির পুকুরে অস্ত্রগুলো ফেলে দেয়ার সময় দুটি ম্যাগজিন না থাকার কথা বলেন। এর পর বিষয়টির সিপুর তার দুলাভাইকে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জানায় দুইটি ম্যাগজিন নেই।
র্যাব সূত্র আরো জানায়, এ খবর পাওয়ার পর ফয়সাল করিম তার শ্যালক সিপুকে ম্যাসেঞ্জারে কল করে সিপুর বোনের কাছে দিতে বলেন। ফয়সাল তার স্ত্রীকে বলেন, ব্যাগ থেকে ম্যাগজিনগুলো দ্রুত নিয়ে আসার জন্য। তা না হলে সবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবে। এর পর বিষয়টি ফয়সালের মায়ের কাছে জানালে তার মা তার স্ত্রীকে বলেন, বাসার নিচ থেকে দ্রুত সেগুলো নিয়ে আসার জন্য।
ওই সূত্র জানায়, অস্ত্রগুলো যে পুকুরে ফেলা হয়েছে তা কেউই প্রথমে জানায়নি। পরবর্তিতে কিলার ফয়সাল করিমের মা ও বাবা এবং রিমান্ডে থাকা স্ত্রীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু প্রমাণপত্র দেখানোর পর তারা অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিনের সন্ধান দেন। এর পরই বেরিয়ে আসতে থাকে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ফয়সাল করিম ও তার আরেক সহযোগী আলমগীর শেখকে নিয়ে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল গত রোববার। যখন হাদিকে গুলি করা হয়েছে বিষয়টি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় তারা একটি প্রাইভেটকারে করে শুক্রবারই পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগেই স্ত্রীর কাছে ৩০টি স্বাক্ষরিত চেকের পাতা এবং অন্যন্য জিনিসপত্র বাসায় রেখে যান ফয়সাল করিম।
গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, ফয়সাল করিম অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারের পর জামিনে বেরিয়ে তার আইটি ফার্মের জন্য সরকারি ও বেসরকারি কাজ বাগিয়ে নেয়। সরকারি কাজ পাওয়া জন্য বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের সামনে বিভিন্নজনকে ভিডিও কলে দেখাতেন। তারা দুইজনই তাদের ঘনিষ্ঠ জাহির করার জন্য ভিডিও কলে ছবি দেখিয়ে বলছেন ‘এই যে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস ভাইয়ের অনুষ্ঠানে। এর পর ধীরে ধীরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির সাথে ভিড়তে থাকেন। এই সুযোগেই তারা হাদিকে সরিয়ে দেয়ার মিশনে নামেন।
মঙ্গলবার রাতে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় র্যাব-১০ এর একটি দল গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাচেষ্টা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা ও মাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, মো: হুমায়ুন কবির ও হাসি বেগমের চার সন্তানের মধ্যে ফয়সাল তৃতীয়। ফয়সাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তার বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন।
ভুয়া নম্বর প্লেট ও মোটরসাইকেল উদ্ধার : তিন দিন পর গতকাল বুধবার ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত ভুয়া নম্বর প্লেটসহ মোটরসইকেলটি উদ্ধার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। গত রোববার আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ির নিচ তলার পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল ও হেলমেটটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ভুয়া নম্বর প্লেট পরিত্যক্ত অবস্থায় ম্যানহোলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে এই ঘটনায় মোটরসাইকেল মালিক সন্দেহে আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সাথে গ্রেফতার হান্নানের আদৌ কোনো যোগসূত্র মিলেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিটিটিসির একটি টিম সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট পরিবর্তনের বিষয়টি উদঘাটন করে। এরই ধারাবাহিকতায় বনলতা আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ির পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল ও হেলমেটটি উদ্ধার করা হয়। পড়ে ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্তে ‘নিবিড়ভাবে’ তদন্ত করা হয়। হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির প্রথম মালিক ছিলেন আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। পরে শহিদুল, রাসেল, মার্কেটপ্লেস, ওবায়দুল ইসলাম, আনারুল, ওবায়দুলের হাত ঘুরে শুভ নামের একজন মোটরসাইকেলটি কেনেন। মোট আট ব্যক্তির হাতবদলের পর হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী মো: কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয়।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র দিয়ে হাদিকে গুলি করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র্যাবের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের কোনো একটি দিয়ে হাদিকে গুলি করা হয়েছে কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পর জানা যাবে। র্যাব জানায়, অস্ত্র ও গোলাবারুদ নরসিংদী জেলার সদর থানাধীন তরুয়া এলাকাস্থ মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিলে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- দু’টি বিদেশী পিস্তল, দু’টি ম্যাগজিন, একটি খেলনা পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি।
ফয়সালকে পালাতে সহায্যকারী নুরুজ্জামান রিমান্ডে : শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রাইভেটকারে পালাতে সাহায্য করার নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গতকাল বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এদিন রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে শুনানিতে বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ইতোমধ্যে ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার সবাইকে জিজ্ঞেস করার পরে আজকের আসামিকেও ঘটনার মধ্যে পাওয়া গেছে। ওইদিন ফয়সাল তার বোনের বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় এ আসামি তাকে গাড়ি দিয়ে পালাতে সাহায্য করে। এ মামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়া প্রধান আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি। এমনকি তার অবস্থান ও নিশ্চিত না। এজন্য আসামিকে রিমান্ডে নিলে সব বের হবে। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুনানিতে বলেন, আসামি নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল ফয়সালকে মাইক্রোবাসে পালানোর জন্য সুযোগ করে দেন। অস্ত্র কোথায় আছে এটা বের করার জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। এ সময় মামলার আসামি নুরুজ্জামান নোমানী আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, আমি গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপদে পড়ে গেছি। আমি হোয়াটসঅ্যাপে রেন্ট-এ কারের ব্যবসা করি। এর জন্য ফয়সালের সাথে ৯ মাসের পরিচয়। তবে গত তিন মাস তার সাথে যোগাযোগ ছিল না। ওইদিন হটাৎ করে ফয়সাল আমাকে গাড়ি পাঠাতে বললে আমি পাঠাই। কারণ এটা আমার ব্যবসা। এখন সে গাড়ি নিয়ে কি করবে সেটা তো আমি জানি না। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এরপর বিচারক আসামিকে বলেন, রিমান্ড মানে শাস্তি না, আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেন।
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর এ আসামিকে ফয়সাল করিম মাসুদের মা-বাবাসহ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। ফয়সালের বাবা-মা বর্তমানে এ মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভিন্ন বিচারকের আদালতে জবানবন্দী দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
স্বাস্থ্যের অবস্থা অপরিবর্তিত : হাদির মস্তিষ্ক সক্রিয় করতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদক জানায়, গুলিবিদ্ধ শরীফ ওসমান হাদির মস্তিষ্ক সক্রিয় করার জন্য অস্ত্রোপচার করানো প্রয়োজন। তবে এ জন্য তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার সকালে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এই বিবৃতি পোস্ট করা হয়েছে। শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী।
এ দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জন ও বাংলাদেশে ওসমান হাদির চিকিৎসকদের অন্যতম ডা: আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, হাদির স্বাস্থ্যের অবস্থা আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। তার চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গতকাল গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান তিনি।
ডা: আব্দুল আহাদ আরো জানান, চিকিৎসা সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালেই হবে। কারণ ব্রিটেন অথবা আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার মতো ভ্রমণের ধকল সহ্য করার ক্ষমতা তার নেই। অনেকেই মনে করছেন যে তার ব্রেনে গুলির খোসার কিছু অংশ আটকে আছে। অস্ত্রোপচার করে তা বের করে তাকে সুস্থ করা যাবে, ব্রেন আগের মতো কাজ করবে ব্যাপারটি তেমন নয়। তিনি বলেন, ব্রিটেন অথবা আমেরিকায় নিলেই যে তার ব্রেনে আটকে থাকা গুলির খোসার কণা বের করা যাবে তেমন নয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা মনে করছেন, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার চিকিৎসা করা হবে।
ওসমান হাদির স্বাস্থ্যের অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল (সঙ্কটাপন্ন), অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়নি বলেও গণমাধ্যমকে বলেন ডা: আব্দুল আহাদ। আবারো যে ব্রেনের সিটি স্ক্যান করা হয়েছে সেখানে যে ইস্কেমিয়া ছিল সেটা আগের চেয়ে বেড়েছে। অন্য রিফ্লেক্সগুলো যেমন পিউপিল (চোখ) রিফ্লেক্স কাজ করছে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টের মাধ্যমে কিডনি, হার্ট লাং সাড়া দিচ্ছে। কিডনি আগের মতো প্রশ্রাব নিঃসরণ করতে পারছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকরা প্রতিদিন পরীক্ষা করে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডা: আব্দুল আহাদ বলেন, এই হাসপাতালেই বেস্ট ট্রিটমেন্ট (সর্বোচ্চ চিকিৎসা) পাচ্ছেন হাদি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে ডা: আব্দুল আহাদ দেশবাসীর কাছে হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।



