নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে ব্যাপক জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে হাতে লেখা রেজাল্ট শিট তৈরি এবং অঙ্কের গরমিলের মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ড. মান্নান জালিয়াতির বিভিন্ন প্রমাণ ও রেজাল্ট শিটের মূল কপি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. মান্নান কয়েকটি কেন্দ্রের রেজাল্ট শিট দেখিয়ে দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফল গণনায় অবিশ্বাস্য সব অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১) কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রাপ্ত ভোট অঙ্কে লেখা হয়েছে ‘২১০৫০’, অথচ কথায় লেখা আছে ‘এক হাজার পঞ্চাশ’। পুরো কেন্দ্রের মোট বৈধ ভোট ২০৬৬ দেখানো হলেও এক প্রার্থীর ভোটই ২১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়াকে বড় জালিয়াতি হিসেবে দেখছেন তিনি।
ড. মান্নান অভিযোগ করেন, সাধারণত রেজাল্ট শিট প্রিন্টেড হওয়ার কথা থাকলেও অনেক কেন্দ্রে হাতে লেখা কাগজ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে কলম দিয়ে কাটাকাটি করে এবং ফ্লুইড ব্যবহার করে ভোটের সংখ্যা পরিবর্তন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরো বলেন, কিছু কেন্দ্রে পেন্সিল দিয়ে ভোটের ফলাফল লেখা হয়েছে এবং অনেক শিটে পোলিং এজেন্টের কোনো স্বাক্ষর নেই।
ড. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন যে, অনেক রেজাল্ট শিটে এমন ব্যক্তিদের নাম এজেন্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে যাদের তিনি নিয়োগই দেননি। এ ছাড়া এজেন্টদের এনআইডি কার্ড না থাকা এবং কার্বন কপি ব্যবহার করে অস্পষ্ট রেজাল্ট শিট দেয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরো দাবি করেন, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচন কমিশনের অফিসটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইশরাক হোসেনের মালিকানাধীন ভবনে। আমরা এটি সরানোর জন্য গত ১৪ জানুয়ারি আবেদন করলেও কমিশন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন আমলে না নিয়েই দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে ড. মান্নান দাবি করেন।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধ এবং জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোর ফলাফল পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।



