হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশে প্রতি বছর কাগজের বিপুল চাহিদা পূরণে প্রায় ৪০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার বাজারমূল্য দাঁড়ায় ছয় হাজার কোটি টাকারও বেশি। দেশেই কাগজের চাহিদা পূরণের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল শিক্ষার্থী। ‘বাইওপেপ নেক্সাস’ নামের দলটি কাঠের বিকল্প হিসেবে কৃষি বর্জ্য ব্যবহার করে শক্ত ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং কাগজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা দেখিয়েছেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে উৎপাদিত ৬০ মিলিয়ন টনেরও বেশি কৃষি বর্জ্য, যার বেশিরভাগই অব্যবহৃত থাকে, তা দিয়েই তৈরি করা সম্ভব টেকসই কাগজ। ধানের খড়, আখ ও কলা গাছের ছোবড়ার মতো কৃষিজ বর্জ্য থেকে প্রস্তুত হবে এ কাগজ, যা পোশাক শিল্পের কার্টুন, ব্যাকবোর্ড, ট্যাগ ও বাক্স তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে।
এ উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসাইন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন মেসবাহুল ইসলাম হাদী, মো: ওমর ফারুক তালুকদার, ফাইরুজ ইয়াসমিন ও মোছা: তামান্না আফরোজ। তাদের এ গবেষণা ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জন করেছে।
দলনেতা আনোয়ার হোসাইন বলেন, প্রচলিত প্যাকেজিং শিল্প কাঠ ও প্লাস্টিকের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা চেয়েছি বর্জ্য মানুষ মূল্যহীন ভেবে ফেলে দেয়, সেটিকেই যেন টেকসই কাঁচামালে রূপ দেয়া যায়। কৃষি বর্জ্য কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব কাগজ তৈরিতে শুধু গাছ বাঁচাবে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
দলের সদস্য ওমর ফারুক তালুকদার জানান, আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশে বাইওপেপ-এর মাধ্যমে কৃষিজ বর্জ্য কাজে লাগিয়ে লাভজনকভাবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং পণ্য তৈরি করা সম্ভব, যা প্রতি বছর লাখ লাখ গাছ বাঁচিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাবে, ক্ষতিকারক কেমিক্যালের ব্যবহার কমাবে এবং দেশে অনেক কর্মসংস্থান গড়ে তুলবে।
আরেক সদস্য মেসবাহুল ইসলাম হাদী বলেন, আমরা চাই কৃষি বর্জ্যকে আর অপচয় না ভেবে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করতে। বাইওপেপ নেক্সাসের মাধ্যমে এ অব্যবহৃত বর্জ্য কাজে লাগিয়ে এমন কাগজ তৈরি করা সম্ভব, যা শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা যোগ করবে।
এ দলটি উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ গত মাসের ৮ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনকেন্দ্র থেকে পুরস্কার পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, কৃষি বর্জ্য থেকে কাগজ উৎপাদনের প্রযুক্তি যদি শিল্প পর্যায়ে রূপ পায়, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উভয় দিক থেকেই এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।



