বুড়িগঙ্গার দুই হাজার মাঝি পরিবারের পেটে ভাত জোটে না কোরবানির আগের ৫ দিন

Printed Edition
পশুর হাটের কারণে যাত্রী না থাকায় ঘাটে বাধা নৌকা :  নয়া দিগন্ত
পশুর হাটের কারণে যাত্রী না থাকায় ঘাটে বাধা নৌকা : নয়া দিগন্ত

শামীম হাওলাদার

  • বেড়িবাঁধে পশুর হাট
  • সংযোগ সড়ক ব্লক

বুড়িগঙ্গা নদীর ১৭টি খেয়া ঘাট বন্ধ করে বেড়িবাঁধে পশুর হাট বসানো হয়েছে। এতে দুই হাজার মাঝিসহ তাদের পরিবার মিলে ১০ হাজার হতদরিদ্র মানুষকে ৫ দিন না খেয়ে থাকতে হয়। কেউ কেউ দিনে মাত্র এক বেলা খাওয়ার সুযোগ পান। অভিযোগ রয়েছে, আমবাগিচা খেলার মাঠ ও জিনজিরায় কোরবানির পশুর হাটই এ জন্য দায়ী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদীর কেরানীগঞ্জ বেড়িবাঁধে আলম মার্কেট থেকে জিনজিরা ফেরিঘাট পর্যন্ত কোরবানির পশু রাখতে বাস পোঁতা হচ্ছে। এর মধ্যে আলম মার্কেট থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত কাজ শেষ করা হয়েছে। এতে ১৭টি খেয়াঘাটের মাঝিরা না খেয়ে থাকার দূর চিন্তায় রয়েছেন। ঘাটগুলো হচ্ছে জিনজিরা ফেরিঘাট, গুদারাঘাট, মসজিদ ঘাট, ব্যাংকের ঘাট, নাদু বেপারি ঘাট, খানার ঘাট, বাস পট্টিঘাট, বটতলা ঘাট, ব্রিজ ঘাট, ডগ ঘাট, ইস্পাহানি ঘাট, নাগর মহল ঘাট ও আলম মার্কেট ঘাট। এর প্রতি ঘাটেই এক থেকে দেড় শ মাঝি রয়েছে। তার মধ্যে আলম মার্কেট ঘাটে প্রায় চার শতাধিক মাঝি রয়েছে। তা ছাড়া জিনজিরা ফেরিঘাটে ৩০০ শত মাঝি ও ব্রিজঘাটে ২৫০ মাঝি রয়েছেন। প্রতিটি ঘাটের সামনে ব্লক করে থাকছে গরু। তা ছাড়া ব্রিজের দুই পাশের রাস্তায়ও রয়েছে গরু আর গরু। গত তিন দিন আগেই রাস্তা আটকিয়ে সারিবদ্ধভাবে গরু রাখা হয়েছে। বেড়িবাঁধে কোনো রিকশা আসতে দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে খেয়ার যাত্রীও মিলছে না। তাই না খেয়ে থাকতে হয় মাঝি ও তার পরিবারগুলোকে।

এ দিকে, পশুর হাট নিয়েও অনিয়ম করা হয়েছে। গত বছর আমবাগিচা হাট ইজারা দেয়া হয় এক কোটি ৭০ লাখ টাকায়। অথচ এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে ইজারা দেয়া হয়েছে মাত্র ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এক কোটি ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। তা ছাড়া জিনজিরা ও কাঠুরিয়া বাজারের চারদিকে ব্লক করে পশু রাখা হয়েছে। বাজারে নারী পুরুষ কেউ ঢুকতে পারে না। কাঠুরিয়া বাজারের আরেক নাম বউ বাজার। এখানে মূলত মধ্য ও নি¤œ মধ্য কিংবা কম আয়ের মানুষরা বাজার করেন। তাও বাঁশ দিয়ে আটকিয়ে সারিবদ্ধ গরু রাখা হয়েছে। কাঠুরিয়া বাজার বাবুবাজার ব্রিজের নিচে। অবৈধ এ বাজারে ৬ শতাধিক দোকান রয়েছে। এ অবৈধ বাজার থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। আগে নিতেন আওয়ামী লীগ নেতা টিটু ও মাহমুদ। এখন চাঁদা তুলছেন বিএনপি নামধারী কিছু অসাধু নেতা।

অন্য দিকে, এ বছর আমবাগিচা মাঠের ইজারা পেয়েছেন আনোয়ার হাজি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদের লোক। শাহিন আহমেদের নির্বাচনী প্রচারে সবসময় এগিয়ে থাকতেন। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পরে বিএনপির এক নেত্রীকে ম্যানেজ করে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লীর সভাপতি বনে যান। গার্মেন্ট পল্লীর প্রায় ৪০ হাজার দোকান থেকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে মাসে আট কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়। এসব টাকা নাইটঘাটের নামে তোলা হয়। খরচ হয় ছয় লাখ। বাকি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়া হচ্ছে।

ব্রিজঘাটের একাধিক মাঝি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা গরিব মানুষ নৌকা বাইতে পারলে পেটে ভাত জোটে আর না বাইতে পারলে না খেয়ে থাকতে হয়। তার মধ্যে আবার গত ৬ মাস ধরে মিটফোর্ড হাসপাতালের গেট বন্ধ করে দেয়ায় যাত্রী অর্ধেকে নামছে। বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেও মিটফোর্ড হাসপাতালের গেটটা খোলা যায়নি। ব্রিজঘাটের বেশির ভাগ যাত্রী মিটফোর্ড এলাকার। ঘাটের সামনে গরু ও তার বর্জ্যরে কারণে কোরবানির আগের ৫ দিন একেবারেই যাত্রী শূন্য থাকে।