সাক্ষাৎকার : ড. মুহাম্মদ আজাদ খান

শিক্ষা ক্যাডার কি আগামী দিনে শিরোনামহীন হয়ে পড়বে?

শিক্ষা ক্যাডারের ‘শিরোনাম’ বা এর স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একটি ক্যাডারের মর্যাদা শুধু বেতন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। পদমর্যাদা, পদোন্নতির সুযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ, কর্মপরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের পর শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা তাদের কাক্সিক্ষত ক্যারিয়ার অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সিলেকশন গ্রেড বাতিল হওয়ার ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মকর্তাদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। এত বড় একটি ক্যাডারের জন্য এটি বড় সমস্যা।

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

সম্প্রতি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো: নুরুল ইসলাম সাত কলেজের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠদানের যোগ্যতা, গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের তৈরি হয়েছে। যদিও পরে ভিসি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তিনি আগের বক্তব্য প্রত্যাহার না করে বরং ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমান অবস্থান, মর্যাদা, সাত কলেজের ভবিষ্যৎ এবং ক্যাডার কাঠামো নিয়ে কথা বলেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান। নয়া দিগন্ত : সম্প্রতি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসি শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. মুহাম্মদ আজাদ খান : প্রথমেই বলতে চাই, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার মর্যাদা শুধু মুখের কথায় নয়, আচরণ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায়ও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষাদান করে আসছেন। তাদের যোগ্যতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পেশাগত অবস্থান একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দরকার, গবেষণার সুযোগ বাড়ানো দরকার, পিএইচডি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো দরকার। কিন্তু একটি বিশেষ ক্যাডারের হাজার হাজার শিক্ষককে সামগ্রিকভাবে অযোগ্য বা গবেষণাবিমুখ হিসেবে দেখাটা সঠিক নয়।

নয়া দিগন্ত : তাহলে কি আপনি মনে করেন, ভিসি মহোদয়ের ওই বক্তব্যের মধ্যে শিক্ষা ক্যাডার নিয়ে একটি বৃহত্তর সঙ্কটের ইঙ্গিত আছে?

ড. আজাদ খান : হ্যাঁ, আমি মনে করি এর মধ্যে একটি কাঠামোগত প্রশ্ন আছে। সেটি হলো আমরা শিক্ষা ক্যাডারকে আসলে কী হিসেবে দেখতে চাই? শিক্ষা ক্যাডার কি শুধু একটি প্রশাসনিক ক্যাডার? নাকি এটি একটি বিশেষায়িত শিক্ষা সার্ভিস? যদি বিশেষায়িত শিক্ষা সার্ভিস হয়, তাহলে এর নিজস্ব মর্যাদা, পদোন্নতি, বেতন কাঠামো, গবেষণার সুযোগ এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। দুঃখজনক হলো, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ক্যাডার নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছে। সংখ্যায় বড় হলেও প্রভাব ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে এটি প্রত্যাশিত অবস্থানে যেতে পারেনি।

নয়া দিগন্ত : আপনি কি মনে করেন শিক্ষা ক্যাডার ধীরে ধীরে তার মর্যাদা হারাচ্ছে?

ড. আজাদ খান : আমি বলব, শিক্ষা ক্যাডারের ‘শিরোনাম’ বা এর স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একটি ক্যাডারের মর্যাদা শুধু বেতন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। পদমর্যাদা, পদোন্নতির সুযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ, কর্মপরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের পর শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা তাদের কাক্সিক্ষত ক্যারিয়ার অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সিলেকশন গ্রেড বাতিল হওয়ার ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মকর্তাদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। এত বড় একটি ক্যাডারের জন্য এটি বড় সমস্যা।

নয়া দিগন্ত : সাত কলেজ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে যাওয়ার পর শিক্ষা ক্যাডারের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আপনার আশঙ্কা কী?

ড. আজাদ খান : এখানেই মূল প্রশ্নটি আবর্তিত হচ্ছে। ঢাকার সাতটি বড় কলেজে বিপুলসংখ্যক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা কর্মরত। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে পাঠদান করছেন। হঠাৎ করে কাঠামো পরিবর্তন হলে তাদের অবস্থান কী হবে এটি এখনই পরিষ্কার করা দরকার। সাত কলেজের বাইরে দেশের বড় সরকারি কলেজগুলোর কথাও ভাবতে হবে। কারমাইকেল কলেজ, রাজশাহী কলেজ, এডওয়ার্ড কলেজ, বিএম কলেজ, বিএল কলেজ, সা’দত কলেজ, আনন্দ মোহন কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, এমসি কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকার সাত কলেজের কাঠামো পরিবর্তনের সাথে সাথে যদি তাদের পদ বিলুপ্ত, স্থানান্তর বা পুনর্বণ্টনের প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সেটি শুধু সাত কলেজের সমস্যা থাকবে না; পুরো শিক্ষা ক্যাডারের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

নয়া দিগন্ত : তাহলে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কি শিক্ষা ক্যাডারের জন্য হুমকি, নাকি সুযোগ?

ড. আজাদ খান : দুই ধরনের সম্ভাবনাই আছে। এটি সুযোগ হতে পারে, যদি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোর মধ্যে যথাযথ মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু যদি সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের অজুহাতে শিক্ষা ক্যাডারের পদগুলো বিলুপ্ত করা হয়, তাদের অন্যত্র ঠেলে দেয়া হয় কিংবা তাদের ক্যাডার পরিচয় দুর্বল করা হয়, তাহলে সেটি শিক্ষা ক্যাডারের জন্য বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি করবে। অতএব এখনই একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন।

নয়া দিগন্ত : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হলে কি শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের নতুন করে যোগ্যতা যাচাই করা উচিত?

ড. আজাদ খান : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার জন্য গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু যোগ্যতা যাচাই হলে সেটি সবার জন্য একই মানদণ্ডে হতে হবে। শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান। তাদের একাডেমিক যোগ্যতা, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং সরকারি নিয়োগ কাঠামোর মধ্য দিয়ে আসতে হয়। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার জন্য যদি অতিরিক্ত গবেষণাভিত্তিক যোগ্যতা প্রয়োজন হয়, সেটি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। যোগ্য শিক্ষককে বাদ দেয়ার বদলে যোগ্যতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা বেশি যুক্তিসঙ্গত।

নয়া দিগন্ত : কেউ কেউ বলছেন শিক্ষা ক্যাডারকে নন-ক্যাডার বা আলাদা ‘শিক্ষা সার্ভিসে’ রূপান্তর করা উচিত। আপনি কী বলবেন?

ড. আজাদ খান : আমি এর মধ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখি। শিক্ষা ক্যাডারকে দুর্বল করে নন-ক্যাডার ব্যবস্থায় নিয়ে গেলে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত স্বাতন্ত্র্য কমে যেতে পারে। ক্যাডার সার্ভিসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো একটি বিশেষায়িত পেশাকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করা। শিক্ষা যদি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান খাত হয়, তাহলে তার জন্য আরো শক্তিশালী ও দক্ষ শিক্ষা সার্ভিস দরকার, দুর্বল সার্ভিস নয়। সরকারি কলেজ জাতীয়করণ বাড়ছে। কিন্তু জাতীয়করণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ক্যাডারের পদ, সুযোগ-সুবিধা ও সাংগঠনিক কাঠামো বাড়ছে না। এটাই বড় বৈপরীত্য।

নয়া দিগন্ত : শিক্ষা ক্যাডারের তিনটি সাব-ক্যাডারের মধ্যে এখন মূলত সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারই টিকে আছে। এটিও কি সঙ্কটের কারণ?

ড. আজাদ খান : অবশ্যই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। একসময় শিক্ষা ক্যাডারের আওতায় সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং মাদরাসা শিক্ষা এই তিনটি বড় ক্ষেত্র ছিল। এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা আলাদা মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষারও পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। ফলে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কার্যপরিধি কাগজে-কলমে সঙ্কুচিত হয়েছে, অথচ সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ওপর দায়িত্বের চাপ কমেনি। বরং সরকারি কলেজ বাড়ার সাথে সাথে দায়িত্ব আরো বেড়েছে।

নয়া দিগন্ত : তাহলে শিক্ষা ক্যাডারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

ড. আজাদ খান : সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের পেশাগত স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা ধরে রাখা। একদিকে বলা হচ্ছে শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষকরা মাথার তাজ। অন্য দিকে বাস্তবে তাদের বেতন, পদোন্নতি, পদমর্যাদা, পদ সৃষ্টি এবং কর্মপরিবেশে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রাখা হচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

নয়া দিগন্ত : সাত কলেজের শিক্ষা ক্যাডার শিক্ষকদের নিয়ে এখন কী করা উচিত?

ড. আজাদ খান : সরকারকে অবিলম্বে একটি স্পষ্ট নীতিমালা করতে হবে। সাত কলেজের বর্তমান শিক্ষা ক্যাডার শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, পদমর্যাদা ও ক্যাডার স্ট্যাটাস নিশ্চিত করতে হবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা রাখেন, তাদের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আর যারা কলেজ কাঠামোতে থাকবেন, তাদের জন্যও মর্যাদাপূর্ণ ও কার্যকর একাডেমিক কাঠামো রাখতে হবে। কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে দীর্ঘদিনের শিক্ষকরা হঠাৎ করে নিজেদের চাকরি বা পদমর্যাদা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

নয়া দিগন্ত : আপনি কি মনে করেন, শিক্ষা ক্যাডার বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বাস্তব?

ড. আজাদ খান : আমি বলব, আশঙ্কাটি একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ বিভিন্ন সময় শিক্ষা ক্যাডারের কাঠামো পরিবর্তন, পদ পুনর্বিন্যাস, কলেজ জাতীয়করণ এবং ক্যাডারের বাইরে নেয়ার নানা আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই বলা যাবে না যে, শিক্ষা ক্যাডার বিলুপ্ত হচ্ছে। সেটি বলার জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত বা সুনির্দিষ্ট নীতিগত প্রস্তাব প্রয়োজন। কিন্তু যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, সেগুলো শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের চিন্তার কারণ হওয়ার মতোই।

নয়া দিগন্ত : শেষ পর্যন্ত শিক্ষা ক্যাডারের জন্য আপনার প্রত্যাশা কী?

ড. আজাদ খান : আমি মনে করি, শিক্ষা ক্যাডারকে দুর্বল নয়, আরো শক্তিশালী করা দরকার। শিক্ষকতার মান বাড়াতে হলে শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়াতে হবে। গবেষণা বাড়াতে হলে গবেষণার সুযোগ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাদানের মান বাড়াতে হলে শিক্ষককে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের শুধু ‘কর্মচারী’ হিসেবে দেখলে চলবে না। তারা রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ঢাকার সাত কলেজ হোক বা দেশের ৭০০-এর বেশি সরকারি কলেজ হোক এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নির্ভর করে শিক্ষকদের ওপর। তাই কাঠামো বদলাতে হলে শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নয়, তাদের সাথে নিয়েই পরিবর্তন করতে হবে। আমার প্রশ্ন হলো যে শিক্ষা ক্যাডার কয়েক দশক ধরে দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার দায়িত্ব পালন করছে, তাকে আরো দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ করার উদ্যোগ না নিয়ে আমরা কি তাকে ধীরে ধীরে ‘শিরোনামহীন’ করে ফেলছি? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই রাষ্ট্রকে দিতে হবে।