ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ড ক্রিকেটে এক যুগের অবসান ঘটতে চলেছে। চলমান নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারদের একজন বেন স্টোকস।
ট্রেন্ট ব্রিজে ম্যাচ চলাকালীন সময়েই ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড স্টোকসের অবসরের ঘোষণা প্রকাশ করে। নাটকীয় বিষয় হলো, ঘোষণার পরপরই নিজের পরের বলেই তিনি উইকেট তুলে নেন। জ্যাক ফাউলকসকে দ্বিতীয় সিøপে ক্যাচ করিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়কেও স্মরণীয় করে তোলেন এই অলরাউন্ডার।
৩৫ বছর বয়সী স্টোকস সতীর্থদের আগে থেকেই নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। ড্রেসিংরুমে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, এই দলের জন্য বহুবার নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন এবং এবার শেষবারের মতো সবাইকে একসাথে সর্বোচ্চটা দেয়ার আহ্বান জানান।
নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ইনিংসেও দায়িত্ব নিতে পিছপা হননি স্টোকস। ইংল্যান্ডের সামনে ৩৭৩ রানের লক্ষ্য থাকায় তিনি ওপেনিংয়ে নেমে মাত্র ২০ বলে ৩০ রান করেন।
১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে স্টোকস ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখে। একই বছরের অ্যাশেজ সিরিজে হেডিংলিতে তার অপরাজিত ১৩৫ রান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেস্ট ইনিংস হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরিসংখ্যানেও স্টোকস ছিলেন অনন্য। তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ১২২টি টেস্ট, ১১৪টি ওয়ানডে ও ৪৩টি টি-২০ খেলেছেন। টেস্টে করেছেন সাত হাজার ২৭৩ রান এবং নিয়েছেন ২৫২ উইকেট। ইতিহাসে খুব কম ক্রিকেটারই এমন অলরাউন্ড কীর্তি গড়তে পেরেছেন।
অধিনায়ক হিসেবেও স্টোকস নতুন যুগের সূচনা করেন। ২০২২ সালে কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সাথে ‘বাজবল’ দর্শনের মাধ্যমে ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ও নির্ভীক ক্রিকেটের নতুন ধারা তৈরি করে।
স্টোকসের বিদায়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ক্রিকেটে একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।



