রাজনৈতিক দলগুলো পক্ষে বলায় ‘হ্যাঁ’ ভোট সহজেই জয়ী হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আসন্ন গণভোটে রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের পক্ষে কথা বলায় ‘হ্যাঁ’ ভোট সহজেই জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোট নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। জামায়াত ও এনসিপি আগেই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলেছে। আর পরে বিএনপির চেয়ারম্যানও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলেছেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কথা শুনে গণভোটে মানুষ ভোট দেবে। এখন বড় বড় দলগুলো যেহেতু হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলেছে, আমার মনে হয় ‘হ্যাঁ’ খুব সহজেই জয়ী হবে।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন সংক্রান্ত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ইউএন ইলেকশন প্রজেক্টের সহায়তায় কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে এমআরডিআই ও ডিকাব।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনবিরোধী প্রচারণা কতটা সফল হবে- জানতে চাওয়া হলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট বর্জন, নানা কারণে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া বা ভোটারদের কিছুটা অনুপস্থিতি সব নির্বাচনেই দেখা যায়। বেশিরভাগ নির্বাচনেই অনুপস্থিতির হার বিবেচনায় নেয়া হয়নি। আজ আমরা যে অবস্থানে পৌঁছেছি তাতে আওয়ামী লীগের নেতিবাচক প্রচারণা ভোটের হারে খুব একটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আমার বিশ্বাস, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সেটা ছাড়িয়ে যাবে।

নির্বাচনকে ঘিরে চলমান সহিংসতায় বিদেশীদের উদ্বেগ নিরসনে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে- প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শুধু বিদেশীরাই নন, সরকারও উদ্বেগের সাথে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। যখন যেখানে যে ঘটনা- দুর্ঘটনা ঘটছে, তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে- সহিংসতার ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে যতটা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়, সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর প্রতিফলন ততোটা দেখা যায় না। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ আমাদের দেশে এক ধরনের চর্চায় পরিণত হয়েছে। সমাজের একাংশও চায় বিদেশী বন্ধুরা কথা বলুক। তাই আমি নির্বাচন নিয়ে কথা বলার জন্য বিদেশীদের দোষারোপ করতে চাই না।

নির্বাচনের পর প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফরের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই বলে জানান তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, কোনো কোনো উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। কারণ তারা ভিসা নেয়ার জন্য দ্রুত সাধারণ পাসপোর্ট হাতে চান। তবে আমি এখনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করিনি।

এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তান কখনোই বলেনি যে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না। তারা বলেছিল বিষয়টি বিবেচনা করবে। আমরা ভারতে খেলবো না, সেটা আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আর পাকিস্তান খেলবে কি না, সেটা একান্তই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। পাকিস্তানের আসন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্তে আমি বিচলিত নই।

এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরো কমানোর জন্য আলোচনা চলছে। তবে এ সংক্রান্ত ঘোষণা কবে আসবে তা এখনই বলা কঠিন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার চুক্তি দ্রুত সই হবে। এ ছাড়া দেশটি চারটি বোয়িং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে লিজে দিতে সম্মত হয়েছে।