রয়টার্স
অনলাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র অপপ্রচার ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মুখে পড়ে মালয়েশিয়ায় শরণার্থী শিশুদের শিা প্রতিষ্ঠানগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটিতে বসবাসরত হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশুর ভবিষ্যতের ওপর, যাদের শিাজীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ১২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু নুর গত জুন মাস থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় দুজন পথচারী তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দিয়ে বলেছিল, “তুমি স্কুলে যেতে চাও কেন? আমাদের দেশ দখল করতে চাও?” নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবার তাকে আর ঘরের বাইরে যেতে দিচ্ছে না। মানবাধিকারকর্মী ও শিকদের মতে, অসংখ্য রোহিঙ্গা শিশু প্রতিদিন এমন ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিরূপ পরিস্থিতির কারণে দেশে অন্তত ৯টি শরণার্থী শিা কেন্দ্র তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী শারিফা শাকিরাহ জানান, শিশুরা এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত যে তারা ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে, যা তাদের মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। মালয়েশিয়ার আইনি কাঠামোতে রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দেয়া হয় না; বরং তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হয়। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসেবমতে, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। সরকারি শিাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় এই শিশুরা সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি সংস্থা ও অনানুষ্ঠানিক শিা কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক স্কুলগুলো বন্ধ হওয়ায় তাদের বিকল্প শিার সুযোগ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে গেছে।
রয়টার্সের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস ও টিকটকেÑ রোহিঙ্গাবিরোধী উসকানিমূলক বার্তা আশঙ্কজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি কোনো কোনো পোস্টে তাদের ওপর শারীরিক সহিংসতার সরাসরি আহ্বান জানানো হয়েছে। থ্রেডসে ‘লেমপাং রোহিঙ্গা’ (রোহিঙ্গাকে চড় মারো) নামে বিশেষ আলোচনা চালানো হয় এবং স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাদের বসতির ভিডিও ধারণ করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়ার উসকানি দেয়। গত জুনে রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়নের দাবিতে একটি অনলাইন স্মারকপত্রে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ স্বার করে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের পর প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। অতীতে করোনাকালেও তাদের বিরুদ্ধে রোগ ছড়ানো ও কর্মসংস্থান দখলের ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অধিকার সংস্থা ‘আর্টিকেল ১৯’ ও জাতিসঙ্ঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই অনলাইন বিদ্বেষ, ভুয়া খবর ও অমানবিক প্রচারণার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও মানবিক সুরা প্রদানে কার্যকর পদেেপর অভাব রয়েছে।



