নীলফামারী প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত নীলফামারীর সাংবাদিক রায়হান আলী এখনো হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। তিনি থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘ আট মাস ধরে সেই হাসপাতালে আছেন তিনি।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নীলফামারী চৌরঙ্গীর মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশি হামলার শিকার হন রায়হান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতাল, পরবর্তী সময়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সিএমএইচে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তাকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার শরীরে ১৮টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পথ এখনো দীর্ঘ, সামনে রয়েছে আরো কয়েক দফা অস্ত্রোপচার। দীর্ঘ সময় পার হলেও শরীর পুরোপুরি সাড়া দিচ্ছে না, প্রতিটি দিন কাটছে অনিশ্চয়তা ও নির্ঘুম যন্ত্রণায়।
রায়হান আলী নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তরাশশী পুরান কাছারি গ্রামের কৃষক আলী হোসেন ছেলে । দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। লাবিব নামে চার বছরের এক শিশুপুত্র রয়েছে তার। রায়হান কাজ করতেন স্বদেশ বার্তা ২৪ ও তালাশ বিডির নীলফামারী প্রতিনিধি হিসেবে।
রায়হানের পিতা আলী হোসেন জানান, ‘রায়হান সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আজ পঙ্গুত্বের দোরগোড়ায়। দেশ ও মানুষের কথা বলতে গিয়ে সে আজ মৃত্যুশয্যায়।
তিনি বলেন, ছেলের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারিভাবে বহন করা হচ্ছে; কিন্তু ছেলের সাথে বউমা রুপালী বেগম থাইল্যান্ডে গেলেও তার যাবতীয় ব্যয়ভার আমাদের বহন করতে হচ্ছে। এ ছাড়া গত দেড় বছর ধরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন পরিবারের সদস্যদের যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ চালাতে গিয়ে আজ আমি নিঃশ্ব। বসতভিটা ছাড়া কিছুই নেই এখন আমার।
রায়হান আলীর সহকর্মী সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম জানান, জুলাই বিপ্লবের এই যোদ্ধার পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক দায়বদ্ধতাও। তার উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এবং পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।
পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওয়াহেদুজ্জামান জানান, এক দিকে ছেলের বিদেশের মাটিতে যন্ত্রণাদায়ক দিন কাটছে অপর দিকে দেশে তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও চার বছর বয়সী শিশুপুত্রের দিন কাটছে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। বাবার অপেক্ষায় থাকা শিশু লাবিবের চোখের পানি আর সন্তানের সুস্থতার জন্য বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আশপাশের পরিবেশ।



