আলজাজিরা
ইয়েমেনের বিদ্রোহীগোষ্ঠী হাউছিদের ক্রমাগত হামলা ও সামুদ্রিক অবরোধের প্রোপটে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে জানতে সৌদি ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশনে’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তাৎণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
হাউছিরা গত ২০ জুলাই ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের অবরোধের জবাবে তারা লোহিত সাগরে দেশটির বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরোপ করছে। তবে ইয়েমেনে অবরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেছে সৌদি আরব।
ইয়েমেনের উপকূলে হাউছিদের ধারাবাহিক ড্রোন-পেণাস্ত্র হামলার মুখে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই জোটের সদর দফতর হবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিকভাবে এ জোট সম্পর্কিত ঘোষণা আসতে পারে।
এই সামরিক জোটে যোগদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, জিবুতি, সোমালিয়া ও সুদানসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে রিয়াদ। ইতোমধ্যেই মিসরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু আঞ্চলিক দেশ এই জোটে অংশ নিতে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তাদের জ্বালানি তেল রফতানির বড় একটি অংশ লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে ওই সমুদ্রপথ ও বাব আল-মানদেব প্রণালী এলাকা হাউছিদের তীব্র হুমকির মুখে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একই সাথে, বাব আল-মানদেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে হাউছিরা টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী কোনো কৌশলগত প্রণালীতে এককভাবে টোল আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও, হাউছিরা এ পথকে তাদের স্থায়ী আয়ের উৎস বানাতে চাইছে। লোহিত সাগরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব বাণিজ্য পথকে হাউছিদের দখল ও বিপর্যয় থেকে মুক্ত রাখতেই সৌদি আরব তড়িঘড়ি করে এই বিশাল প্রতিরা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।



