অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
সূচকের বড় ধরনের উন্নতির পর যথারীতি সংশোধন ঘটেছে পুঁজিবাজারে। রোববার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটে। আর গতকাল সোমবার ফের সংশোধন ঘটে দুই বাজারে। এতে বাজারগুলোতে সূচকের মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। উভয় বাজারেই দু’টি সূচকের নামমাত্র উন্নতি ঘটলেও অবনতির শিকার ছিল একটি সূচক। তবে সংশোধন সত্ত্বে¡ও গতি হারায়নি বাজারগুলো লেনদেনে অনেকটা আগের দিনের অবস্থান ধরে রাখে দুই বাজার।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা দিনের বাজার আচরণকে খুবই স্বাভাবিক মনে করছেন। তাদের মতে, বাজারে সূচকের বড় ধরনের উন্নতি মানেই শেয়ারের মূল্যস্তর বৃদ্ধি পাওয়া। আর এ পর্যায়ে মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলে তা হাতছাড়া করতে চান না বিনিয়োগকারীরা। তাই মূল্যবৃদ্ধির পর যথাসময়ে এ সংশোধন বাজারের দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়ার পূর্বশর্ত। তা না হলে বাজারে ঝুঁ^কি তৈরি হতে পারে। সংশোধনের পর পরিবর্তিত মূল্যস্তরে আবার নতুন বিনিয়োগ আসবে, আর এটাই পুঁজিবাজার। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বিনিয়োগকারীরা যেমন লাভবান হয় তেমনি বাজারও গতি পায়।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৫ হাজার ৭১৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে ৫ হাজার ৭২২ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে ৬ স্থির হয়। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ ৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখলেও ডিএসই শরিয়াহর অবনতি ঘটে দশমিক ২ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান তথা সার্বিক মূল্যসূচক ৪ দশমিক ৪০ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে গতকাল। ১৫ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৪১ পয়েন্ট থেকে সকালবেলা যাত্রা করা সূচকটি বিকেলে লেনদেন শেষে ১৫ হাজার ৩৫৮ দশমিক ৮১ পয়েন্টে স্থির হয়। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে সিএসই-৩০ সূচকটি ২৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট অবনতির শিকার হলেও সিএসসিএক্স সূচকটি ৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
গতকাল সূচকের ঊর্র্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু করলেও মাত্র পনের মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে পুঁজিবাজারগুলো। শুরুতে এ চাপ সামলে নিলেও বেশ কয়েকবার এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটে ১৭ পয়েন্টের বেশি। তবে লেনদেনের শেষদিকে এসে হারানো সূচক ফের ফিরে পায় বাজারগুলো। এতে দিনশেষে প্রধান সূচকের নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয় দুই পুঁজিবাজার।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেই (বিএসইসি) অফিস করবেন। জানা গেছে ইতোমধ্যে কমিশনে তার জন্য একটি দাফতরিক কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কমিশনের দশম তলায় বরাদ্দ হওয়া একটি কক্ষে তার প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বিশেষ প্রয়োজনে এই কক্ষ থেকে দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনায় পরামর্শ দেবেন।
রোববার (২৮ জুন) বেলা ১টার দিকে তানভীর গনি বিএসইসি কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি প্রথমে বিএসইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনার তানভীর হাবিব রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে কমিশনের নির্বাহী পরিচালকদের সাথে বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। জানা গেছে, বৈঠকে বিএসইসির পক্ষ থেকে বাজারের বর্তমান অবস্থা, নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে নেয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি কমিশনে বরাদ্দ পাওয়া নিজ কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। পুঁজিবাজারসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম, সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন অংশীজনের সাথে সমন্বয় জোরদারে তিনি মাঝে মধ্যে এখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
পেশাগত জীবনে তানভীর গনি হংকংভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান টাইবোর্ন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও সহপ্রতিষ্ঠাতা। হেজ ফান্ড ও প্রাইভেট ইকুইটি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত পরামর্শ প্রদানে সুপরিচিত। গত ২ এপ্রিল তিনি বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের শেয়ারবাজার সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিএসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার রোডম্যাপ মূল্যায়ন, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দেশের শেয়ারবাজারকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ মানচিত্রে আরো দৃশ্যমান করে তোলার প্রচেষ্টা।
ডিএসইতে গতকালও লেনদেনের শীর্ষ স্থানটি দখলে রাখে বেক্সিমকো লি:। আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও লেনদেনের শুরুতে দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে যায় কোম্পানিটির শেয়ারদর। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ার বেচাকেনা হয় কোটির ওপরে। কিন্তু বাজারে বিক্রয়চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে কোম্পানিটিতেও। কমতে থাকে দর। দিনশেষে আগের দিনের দরও ধরে রাখতে পারেনি কোম্পানিটি। তবে এরই মধ্যে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় দুই কোটি ২৩ লাখ ৪৬ হাজার শেয়ার হাতবদল করে লেনদেনের শীর্ষে পৌঁছে যায় কোম্পানিটি। ৬২ কোটি ৩১ লাখ টাকায় এক কোটি ৯৬ লাখ ২৩ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে আইপিডিসি উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক, এনসিসিবি, মালেক স্পিনিং, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইটি কনসালট্যান্ট ও সিটি ব্যাংক।



