ক্রীড়া প্রতিবেদক
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে জয়ের জন্য লক্ষ্যটা বড় ছিল না চট্টগ্রাম রয়্যালসের। তবে ইনিংসের চতুর্থ ও পঞ্চম ওভারের ৬ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিল শেখ মাহেদীর দল। দলীয় ২৮ রানেই চার উইকেট নেই চট্টগ্রামের। সেখান থেকে মাহেদী ও হাসান নাওয়াজের ব্যাটে ৪০ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেয়া তারা। শেষ দিকে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচটাকে কঠিন করে তোলেন রিপন মণ্ডল ও তানজিম হাসান সাকিব। রাজশাহীর বিপক্ষে জয় পেতে শেষ দুই ওভারে ১৩ রান প্রয়োজন ছিল চট্টগ্রামের। ১৯তম ওভারে ৩ রানেই শেষ করেন তানজিম। জয়ের জন্য ১০ রানের সমীকরণে মেহরবের প্রথম তিন বলে ৮ রান নিয়ে ম্যাচটা নিজেদের গ্রিপে নিয়ে আসে চট্ট্রগ্রাম। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম বল ডট দেন নওয়াজ। তবে শেষ বলটি লং অফে বল পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় দুই রান তুলে নেন নওয়াজ ও শরীফুল। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর ২ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চট্টগ্রাম। দলের জয়ে ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচসেরা হন পাকিস্তানের মোহাম্মদ নাওয়াজ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ১২৮ রান করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। লক্ষ্য তাড়ায় ৮ উইকেট হারিয়ে ২০তম ওভারের শেষ বলে ১২৯ রান নিলে জয় নিশ্চিত হয় চট্টগ্রামের। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে আগের দিন জয়ের নায়ক ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুহাম্মদ ওয়াসিম। চট্টগ্রামের বিপক্ষেও গতকাল দ্বিতীয় ওভারেই আবু হায়দার রনিকে টানা দু’টি ছক্কায় দুর্দান্ত শুরুর আভাস দেন এই ব্যাটার। চতুর্থ ওভারে স্পিনার তানভির ইসলামের দ্বিতীয় বলে ১৪ বলে ১৯ রান করে বোল্ড হন ওয়াসিম। পুরো ইনিংসেও সেই ১৯ রানই যৌথভাবে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান।
চার দিয়ে ইনিংসের শুরু করলেও হাসান নাওয়াজের বলে ছক্কার চেষ্টায় লং অফে আমির জামালদারুণ ক্যাচ নিলে ৭ রানেই থামেন শান্ত। তানজিদ হাসানের ব্যাটও ছিল নিশ্চুপ। জামালের করা পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারের প্রথম বলেই ৫ রান নিয়ে ফিরতে হয়েছে এই ওপেনারকে। নাওয়াজের বলে সøগ সুইপে ছক্কায় শুরুর পর বেশি দূর এগোতে পারেননি মুশফিকুর রহীমও। জামালের শিকারে পরিণত হন ১২ বলে ১৫ রান নিয়ে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এস এম মেহেরবের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ১৯। ১০ বলে ১১ রান জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার রায়ান বার্লের। জামালের বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ করেন আকবর আলি। শেষ দিকে ১৪ বলে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তানজিম। তিনটি উইকেট নেন আমির জামাল।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় রাজশাহীর মতোই শুরুটা ছিল চট্টগ্রামের। চতুর্থ ওভার থেকেই বদলে যায় চিত্র। স্পিনার মেহেরবের প্রথম ওভারেই দুই উইকেট। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অ্যাডাম রসিংটন বিদায় নেন ১৫ বলে ১৭ রান করে। ওভারেই তৃতীয় বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফেরান মাহমুদুল হাসান জয়কে। পরের ওভারে আবার জোড়া ধাক্কা বিনুরা ফার্নান্দোর। ৭ বলে ৭ রান নিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। পরের বলে সাদমান ইসলামও। বিনা উইকেটে ২৪ রান থেকে ২৮ রানে ৪ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে সতর্কতার পথ বেছে নেন শেখ মাহেদী ও হাসান নাওয়াজ। কিন্তু বিপর্যয় কিছুটা কাটিয়ে সান্দিপ লামিছানের বলে বোল্ড হয়ে ২৫ বলে ২৮ করে ফেরেন শেখ মাহেদী। আসিফ আলিকে নিয়ে এবার ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান নাওয়াজ। ১৭তম ওভারে ফার্নান্দোর বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচটা সহজ সমীকরণে নিয়ে আসেন আসিফ। কিন্তু এক বল পরই আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় শান্তর দারুণ ক্যাচের পরিণত হন ২৫ বলে ২৭ রান করা আসিফ। পরের ওভারে রিপন মন্ডলকে ছক্কা মারার পর বিদায় নেন আমির জামালও। ১৯তম ওভারে ৩ রান দিয়ে আবু হায়দারের উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দেন তানজিম হাসান। ২০তম ওভারে মেহেরবের প্রথম দুই বলে দু’টি করে রান। তৃতীয় বলে চার মারেন নাওয়াজ। এরপর নাটক জমিয়ে শেষ বলে দুই রান নিলে ম্যাচ জিতে যায় চট্টগ্রাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী রয়্যালস : ১২৮/৯ (২০ ওভার) তানজিদ ৫, ওয়াসিম ১৯, শান্ত ৭, মুশফিক ১২, মেহেরব ১৯, বার্ল ১১, আকবর ১৭, তানজিম ১৪*, রিপন ১, লামিছানে ৫, বিনুরা ৩*; শরিফুল ২/২০, তানভির ২/২৬, শেখ মাহেদী ১/২১, নাওয়াজ ১/১৩, জামাল ৩/২৩। চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১২৯/৮ (২০ ওভার) নাঈম ৭, রসিংটন ১৭, জয় ৪, নাওয়াজ ৩৫*, সাদমান ০, শেখ মাহেদী ২৮, আসিফ ২৭, জামাল ৮, আবু হায়দার ১, শরিফুল ১*; বিনুরা ৩/১৮, রিপন ১/৩৩, মেহেরব ২/২৫, তানজিম ১/২৫, লামিছানে ১/২১।
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: হাসান নাওয়াজ।



