- বিশেষ এলাকার জন্য ১০০ কোটি টাকা
- ইকো. জোনের জন্য সোয়া ২ হাজার কোটি টাকা
- বেপজার জন্য এক হাজার ২২০ কোটি টাকা
হামিদুল ইসলাম সরকার
আর তিন মাস পরেই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বর্তমান বিএনপি সরকারের দেয়া প্রথম বাজেট। আগামী বাজেট উন্নয়ন খাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ১৫টি প্রকল্পের বিপরীতে চার হাজার ৪৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দের চাহিদা দিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে চাহিদাও বেড়েছে। আর গত অর্থবছরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দুই হাজার ৬৭৩ কোটি ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা চাওয়ার বিপরীতে সেটিই বরাদ্দ দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাহিদা ছিল তিন হাজার ৩৭৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর এবার চাহিদার অর্থের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাঁচ প্রকল্পের জন্যই দুই হাজার ২৯৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং বেপজার জন্য এক হাজার ২২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক প্রশাসন থেকে পত্র দেয়া হয়েছে ৩০ মার্চ।
আগের সরকারের আমলের চাহিদা : আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এডিপিতে ছিল তিন হাজার ৩৭৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা, আর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৩টি প্রকল্পের বিপরীতে দুই হাজার ৪৮ কোটি ১৪ লাখ টাক চাহিদা ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ছিল দুই হাজার ৪২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
এবারের চাহিদা ১৫ প্রকল্পের জন্য : পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ তার আওতাধীন সংস্থাগুলো কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ১৫টি প্রকল্পের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ওই অর্থ বরাদ্দ চাহিদা দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে জিওবি খাতে দুই হাজার ৭০ কোটি ৩৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, প্রকল্প সাহায্য খাতে এক হাজার ৫২০ কোটি ৫৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং স্ব-অর্থায়ন থেকে ৪৫৪ কোটি ২৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। পাশাপাশি সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি অনুমোদিত প্রকল্প এডিপি বা আরএডিপি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের (এএমএস) মাধ্যমে নির্দেশক্রমে প্রেরণ করা হলো। এখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া বিশেষ এলাকার জন্য এক শ’ কোটি টাকা বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে।
চাহিদাপত্র থেকে জানা গেছে, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে ১২ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে চলমান। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগামী ২০২৮ সালের জুন মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পাচটি প্রকল্পের জন্য দুই হাজার ২৯৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। এখানে ২০১৯ সাল থেকে বাস্তবায়নাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য ৩১২ কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ২০২২ সাল থেকে বাস্তবায়নাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দু’টি আধুনিক ফায়ার স্টেশন স্থাপনে ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩-এর জন্য ২৭৫ কোটি টাকা, নারায়ণগঞ্জের জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৩১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০২১ সালে নেয়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৩২৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে ২০২৩ সালের নেয়া পটুয়াখালী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্পের জন্য ৪৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যশোর রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্পের জন্য ৭৪৮ কোটি ৮৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আর বেপজার আওতাধীন ২০২৩ সালে নেয়া প্রকল্পে ইপিজেডগুলোর জন্য আটটি ছয়তলা কারখানা ভবন নির্মাণে ১১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২০ সালে নেয়া প্রকল্পের বিপরীতে ১৫৩ কোটি ৬২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, মীরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রাস্তা ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের জন্য ৭১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, অননুমোদিত স্কিলস ট্রেনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রোমোশন ফর উইমেন ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ প্রকল্পটির জন্য ১০৫ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ১০ বছরের জন্য।
প্রকল্পটি প্রসঙ্গে বাস্তবায়নকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এলোকেশন অব বিজনেসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। সর্বশেষ এডিপি/আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্ত আছে। সমজাতীয় আর কোনো ক্ষুদ্র প্রকল্পের প্রস্তাব নেই এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। বৈদেশিক ঋণ/অনুদান-এর চুক্তি স্বারিত হয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়নের সুবিধার্থে নতুন প্রকল্প তালিকায় (সবুজ পাতা) অন্তর্ভুক্তি আবশ্যক। এমতাবস্থায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।



