সিলেট ব্যুরো
ডাকসু ভিপি আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) বলেছেন, এ দেশে ভারতীয় দাদাগিরি আর চলবে না। সীমান্তে হত্যা চলতে দেয়া যাবে না। কোনো বিদেশী প্রেসক্রিপশনে দেশ আর চলবে না। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ, যেখানে কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি থাকবে না।
তিনি গতকাল দুপুরে কোম্পানীগঞ্জে সিলেট-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত ছাত্র ও যুব সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপরি উক্ত কথা বলেন। উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ফয়জুর রহমানের সভাপতিত্বে কোম্পানীগঞ্জ সদর প্রাইমারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ছাত্র ও যুব সমাবেশ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জয়নাল আবেদীন।
সমাবেশে প্রধান আকর্ষন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় ছাত্রপ্রতিনিধি ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বক্তব্যের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সবাইকে নিয়ে দোয়া করেন।
তিনি বলেন, এই ছাত্র যুব সমাবেশে কোনো চাঁদাবাজ নেই, টেন্ডারবাজ নেই, ধর্ষক নেই। আগামীর বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত, টেন্ডারবাজমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। এই আসনের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন একজন যোগ্য ব্যক্তি। তাকে নির্বাচিত করে এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আমূল পরিবর্তনে কাজ করবেন। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী আচরণ চলবে না। দেশ চলবে জনগণের ইচ্ছায়। ইনসাফের দেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি তারুণ্যের প্রথম ভোট দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক এই আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসুতে তরুণ সমাজ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে তরুণ সমাজসহ গোটা দেশ ইনসাফের পক্ষে রায় দেবে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামীর নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। সিলেটবাসী ১৯৪৭ সালে গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০২৬ সালেও সিলেটবাসী সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না।
প্রধান অতিথি সিলেট-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোটের জোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মাশুক উদ্দিন, সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শাহীন আহমদ, ডাকসুর ছাত্র পরিবহনবিষয়ক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও জামায়াত নেতা অধ্যাপক আব্দুল হান্নান প্রমুখ।
সমাবেশে হাজার হাজার ছাত্র ও যুবক অংশ নেন। সাদিক কায়েমকে এক নজর দেখতে সকাল থেকেই সমাবেশ স্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
সিলেটের মানুষও প্রকৃতির মতো সুন্দর ও বৈচিত্র্যময়
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মতো সিলেটের মানুষগুলোও সুন্দর ও বৈচিত্র্যময়। ইসলামের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের দরদ ও ভালোবাসা, শাহজালাল রহ:, শাহপরান রহ:সহ অলি-আউলিয়াদের অবদান সিলেটকে ইসলামের জন্য এক অনন্য জনপদে পরিণত করেছে। তিনি সিলেটের রাজনৈতিক বৈচিত্র্যময় সম্প্রীতিকে এক অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডাকসু ভিপি সিলেটের প্রতি তার আলাদা একটা টান রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের অনেক জেলার বহু জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু সিলেটের সবকিছু আমাকে আলাদাভাবে মুগ্ধ করে।
সাদিক কায়েম গতকাল সকালে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তার এমন অনুভূতি ব্যক্ত করেন। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছলে তাকে বিপুল অভ্যর্থনা জানানো হয়।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সিলেটের প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানকার লাখ লাখ প্রবাসী কোটি কোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন।
ডাকসু ভিপি এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।



