রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
এবারের ঈদুল ফিতরকে ঘিরে পর্যটননির্ভর জেলা রাঙ্গামাটিতে বাণিজ্য ও পর্যটন- দুই খাতেই দেখা গেছে ব্যতিক্রমধর্মী উচ্ছ্বাস। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার বিপণিবিতান, বাজার ও পর্যটন খাতে মিলিয়ে শত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক প্রবাহ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঈদের আগের দিনগুলোতে শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বনরূপা, রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ি এলাকায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দিন-রাত টানা কেনাকাটা চলেছে। শুধু শহর নয়, জেলার দুর্গম উপজেলা থেকেও মানুষ ঈদের কেনাকাটার জন্য রাঙ্গামাটি শহরে আসেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার কেনাকাটার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, শিশুদের পোশাক, রেডিমেড গার্মেন্ট, শাড়ি-পাঞ্জাবি, জুতা ও প্রসাধনী সামগ্রীর বিক্রি ছিল সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি সেমাই, চিনি, মাছ-গোশতসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও ছিল বাড়তি চাহিদা। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখেছেন।
ঈদের পরপরই রাঙ্গামাটির পর্যটন খাতে শুরু হয় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকের ঢল নামে জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, হাউজবোট, ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও রেস্তোরাঁ- সবখানেই ছিল ভিড় ও ব্যস্ততা।
পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে আরণ্যক রিসোর্ট, পলওয়েল পার্ক, জেলা প্রশাসনের শিশু পার্ক, বার্গী লেক রিসোর্ট, রাঙাদ্বীপ, কাপ্তাই নেভিক্যাম্প ও সাজেক ভ্যালিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুরা রাঙ্গামাটিকে বেছে নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে প্রবাসী ও কর্মজীবী মানুষের ঘরে ফেরা এবং পর্যটকদের আগমন- এই দুইয়ের সমন্বয়ে জেলার অর্থনীতি চাঙা হয়ে ওঠে। পরিবহন, আবাসন, খাদ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতিফলন ঈদের বাজার ও পর্যটনে দেখা গেছে। ‘ক্রেতা ও পর্যটকের উপস্থিতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে,’ বলেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে রাঙ্গামাটির অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে। একই সাথে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে আরো বেশি আয় সম্ভব হবে।
সবমিলিয়ে এবারের ঈদ রাঙ্গামাটির জন্য শুধু উৎসবই নয়, বরং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের একটি ইতিবাচক বার্তা হয়ে এসেছে।



