বিশেষ সংবাদদাতা
অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভিস অফিসার্স ফোরাম বলেছে- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাঠ প্রশাসনের- বিশেষ করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের-ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর আস্থা রেখেই নির্বাচন পরিচালনা হওয়া বাস্তবসম্মত। অপ্রয়োজনীয় ‘হাইব্রিড মডেল’ প্রয়োগ নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে আরো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভিস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি সাবেক সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম ও মহাসচিব সাবেক সচিব ড. মো: শরীফুল আলম এক বিবৃতিতে বলেন- বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা উদ্ভূত হয়েছে। বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ ও অসন্তোষের পেছনে তৎকালীন সরকারের অনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং পূর্বনির্ধারিত ফলাফল নিশ্চিত করার অপচেষ্টা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে- এটাই এখন সর্বজনস্বীকৃত বাস্তবতা।
তারা বলেন- একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন একটি সমন্বিত জাতীয় প্রক্রিয়া, যেখানে বহু প্রতিষ্ঠান ও পক্ষ জড়িত থাকে। তবে মাঠ প্রশাসনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে। এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক নির্বাচনী অভিজ্ঞতারই স্বাভাবিক প্রতিফলন।
ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন- জাতি আজ প্রত্যাশা করে, গত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দৃঢ় অবস্থান এবং কার্যকর তদারকি অপরিহার্য। আমরা বিশ্বাস করি, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর আস্থা রেখেই নির্বাচন পরিচালনা হওয়া বাস্তবসম্মত। অপ্রয়োজনীয় ‘হাইব্রিড মডেল’ প্রয়োগ নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে আরো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়- যেসব কর্মকর্তা নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। পেশাগত সুনাম পুনর্গঠনের জন্য এটিই প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এবার যদি নির্বাচন ব্যর্থ হয়, তার ক্ষতি হবে অপূরণীয়, দেশ আর এমন ব্যর্থতা বহন করতে পারবে না। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দলীয়করণের চর্চা বন্ধ না হলে গণতন্ত্রের ভিত আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।
বিবৃতিদাতারা বলেন- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তরুণ সমাজসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনমুখী কৌশল গ্রহণ করছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠ প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য শর্ত।
তারা আশা ব্যক্ত করেন যে, সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য সুস্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করবে। একই সাথে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় বিধিবিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবে, যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়।



