বিবিসি
উত্তর আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ সংরক্ষিত স্বর্ণ স্থানান্তর শুরু করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অনাকাক্সিক্ষত সঙ্কট মোকাবেলায় উত্তর আমেরিকা থেকে নিজেদের ৮৬ টন স্বর্ণ লন্ডনে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ স্থানান্তরের ফলে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে এ মূল্যবান সম্পদ দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য সঙ্কট ও বৈসামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন স্বর্ণের মজুদ নিজস্ব ভূখণ্ডের কাছাকাছি রাখতে উৎসাহিত হচ্ছে। এর আগে ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের পুরো স্বর্ণের রিজার্ভ ফেরত আনে এবং জার্মানির বুন্ডেস ব্যাংকও নিউ ইয়র্ক ও প্যারিস থেকে ২০০ টনের বেশি স্বর্ণ স্থানান্তর করে। গোল্ডম্যান স্যাকস ও ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের বিশ্লেষকদের মতে, কেবল ভূরাজনৈতিক সঙ্কটই নয়; বরং মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং সঙ্কটকালীন দ্রুত লেনদেনের সুবিধা পেতে বৈশ্বিক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুরক্ষিত ভল্টকে সেরা বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে, যেখানে দ্রুত কেনাবেচার সুযোগ রয়েছে। স্বর্ণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভৌত পরিবহনের চেয়ে কৌশলগত হিসাবভিত্তিক লেনদেনই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, নেদারল্যান্ডস নিউ ইয়র্কে তাদের মজুদকৃত স্বর্ণ বিক্রি করে একই সময়ে একই মূল্যে লন্ডনে নতুন সমপরিমাণ স্বর্ণ কিনে স্থানান্তরের জটিলতা এড়িয়েছে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে কঠোর নিরাপত্তায় সীমান্ত পেরিয়ে ভৌত স্থানান্তরও চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে স্বর্ণ স্থানান্তরের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বার্ষিক গড়ে এক হাজার টন করে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছে, যা পূর্ববর্তী দশকের তুলনায় দ্বিগুণ। ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের বাজারদর ঐতিহাসিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। চলতি বছরে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড পাঁচ হাজার ডলার অতিক্রম করার পর কিছুটা কমলেও, বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তা চার হাজার ৯০০ ডলারে স্থিতিশীল হতে পারে। সার্বিকভাবে, ভূরাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক ঝুঁঁকি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ভল্টিং কৌশলে বৈচিত্র্য আনার প্রবণতাই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



