৫ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটে নিহত ১২৬

Printed Edition

সিলেট প্রতিনিধি

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা যেন থামছেই না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ১৮৬টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৭৫ জন। তাদের মধ্যে ১০৯ জন গুরুতর আহত। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন।

সর্বশেষ গত শুক্রবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশীকাপন এলাকায় বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ইউনিক পরিবহনের ৯ যাত্রী নিহত হন। এর আগে ৩ মে দক্ষিণ সুরমার নাজিরের বাজার এলাকায় বাসের চাপায় শ্রমিকবাহী একটি লেগুনার ১২ যাত্রী নিহত হন।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন, মার্চে ৪১টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন, এপ্রিলে ২৩টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন, মে মাসে ৪০টি দুর্ঘটনায় ২২ জন, জুনে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন এবং জুলাইয়ে ৩২টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। মার্চে দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি হলেও জুনে প্রাণহানি ছিল সর্বাধিক।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের বেপরোয়া গতি, যত্রতত্র পার্কিং, সড়কের পাশে ভাসমান দোকান এবং হাটবাজারকেন্দ্রিক যানজট দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মৌলভীবাজারের শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, নবীগঞ্জের আউশকান্দি কিবরিয়া চত্বর, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্ট ও সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার এলাকায় ঝুঁকি বেশি বলে স্থানীয়রা জানান।

হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। কিন্তু অনেক দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে চলে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে চালকের পক্ষে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।