রয়টার্স
হোয়াইট হাউজে চলমান সংস্কারকাজের কারণে সৃষ্ট বেতার যোগাযোগের গোলযোগে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ মাঝ-আকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়েছিল। গত ৪ আগস্ট ওয়াশিংটনের রেগান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে এই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) এক প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে।
এতে বলা হয়, হোয়াইট হাউজের নির্মাণকাজের দরুন হেলিকপ্টারটির অবস্থান পরিবর্তন করায় এর সঙ্কেত পাঠাতে বিঘœ ঘটে। এতে উড্ডয়নের আগ মুহূর্তে ‘মেরিন ওয়ান’-এর সঙ্কেত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের কাছে পৌঁছায়নি। সতর্কবার্তা না পাওয়ায় একই সময়ে তারা ‘এনভয় এয়ার’-এর একটি যাত্রীবাহী বিমানকে আকাশে ওড়ার অনুমতি প্রদান করেন। ঘটনার পর টেকনিশিয়ানরা অনুসন্ধান চালিয়ে বেতার সঙ্কেত পৌঁছতে না পারার মূল কারণ চিহ্নিত করেন। উদ্ভূত জটিলতা কাটাতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিমানের টাওয়ার চূড়ায় রেডিও রিসিভারটি পুনঃস্থাপন করে, যা পরবর্তী সময়ে সফলভাবে কাজ করতে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মীরা সঙ্কেত পাননি বলেই একই সময়ে দু’টি যানকে আকাশে যাওয়ার অনুমতি দেন। তবে ‘মেরিন ওয়ান’-এর চালকেরা দূর থেকে বিমানটি দেখতে পেয়ে সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থামিয়ে অপেক্ষা করেন। এরপর উড়োজাহাজটি হেলিকপ্টারের ওপর দিয়ে উঁচুতে উঠে গেলে সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এনটিএসবির হিসেব অনুযায়ী, যান দু’টির মধ্যে আড়াআড়ি দূরত্ব ছিল ১.৩ কিলোমিটার এবং উপর-নিচে মাত্র ৭০০ ফুট। এনভয় এয়ারের কর্মীরা সতর্কবার্তা পেলেও হেলিকপ্টারটি তাঁদের দৃষ্টিগোচর হয়নি।
বিমান চালকেরা বিষয়টি উপলব্ধি করার পরপরই অনাহূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরে নামতে যাওয়া আরেকটি যানকে আকাশে চক্কর দেয়ার নির্দেশ দেন। এফএএ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা অবশ্য নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট সে সময় বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েননি।



