তুহিন আহামেদ আশুলিয়া (ঢাকা)
আশুলিয়ার বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের ২০ জন কর্মী ১৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মী দীর্ঘ দিন ধরে বেতন না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা। গত বুধবার সকালে সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে আউটসোর্সিংয়ের কয়েকজন কর্মীর সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট জিরানী বাজারে ৩০ শয্যার বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে আশুলিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের ধামরাই ও কালিয়াকৈর উপজেলা থেকে আসা রোগীরা মাত্র পাঁচ টাকার টিকিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পেতেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে দেয়া হতো। হাসপাতালে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকাজের জন্য ২০ জনকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়। কর্মীদের ভাষ্য, কোরিয়ান ব্যবস্থাপনার সময় তারা নিয়মিত বেতন পেতেন। পরে হাসপাতাল রাজস্ব খাতে যাওয়ার পরও কয়েক মাস তাদের বেতন নিয়মিত ছিল। কিন্তু হাসপাতাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের আওতায় থাকা আউটসোর্সিং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার পর আর নবায়ন করা হয়নি। এরপর থেকে তাদের বেতনও বন্ধ রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সূর্য বাসফোর বলেন, তিনি বর্তমানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাশাপাশি অফিস পিয়নের কাজও করছেন। স্ত্রী, সন্তান ও বাবাকে নিয়ে কবিরপুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। দীর্ঘ দিন বেতন না পাওয়ায় সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তাপসী মজুমদার বলেন, তার নিয়োগ নিরাপত্তাকর্মী পদে হলেও তিনি মূলত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের কাজ করেন। দীর্ঘ দিন বেতন না পাওয়ায় এখন নিয়মিত হাসপাতালে আসাও সম্ভব হচ্ছে না। তার স্বামী গাজীপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার একার আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানান তিনি।
হাসপাতালের টিকিট মাস্টার মোর্শেদ আলম বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের ১৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও এর কোনো সমাধান হয়নি। আউটসোর্সিংয়ের আবু তারেক, মোকছেদ দেওয়ান ও মিজানুর রহমানসহ ২০ জনের প্রায় সবার একই অবস্থা। তাদের কেউ এখনো কাজ করছেন, আবার কেউ বেতন না পেয়ে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা: এস কে এম শিবলী রহমান বলেন, আউটসোর্সিং কর্মীদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।



