বিশ্লেষকদের অভিমত

পক্ষপাতহীন নির্বাচন ইসির অগ্নিপরীক্ষা

Printed Edition

হামিদুল ইসলাম সরকার

কোনো ধরনের সংহিসতা ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অংশগ্রহণমূলক করতে পারাই হলো বর্তমান এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পক্ষপাতহীন নির্বাচন করাই ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। এই চ্যালেঞ্জে এই কমিশন যদি সফলতা অর্জন করতে পারে এবং ভোটারদের আস্থাহীনতা কাটিয়ে উঠতে পারে তাহলে তাদের আগামী পথচলা মসৃণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশে নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই নির্বাচনের ওপরই নির্ভর করছে ইসির ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ। এটা দিয়ে যাত্রা শুরু হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের আগে বর্তমান ইসি নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেনি। ফলে ফ্রেশার হিসেবেই এই দু’টি ভোট এক দিনে আয়োজন করতে যাচ্ছে। দু’টি ভোট এক দিনে আয়োজন ইসির জন্য বড় পরীক্ষা। এই দু’টি বিষয়ের ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গলদ হলে সেটি ভোট গ্রহণ ও গণনাকে সঙ্কটের মুখে ফেলতে পারে। এ কারণে গণনায় অপ্রত্যাশিত বিলম্ব হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যেতে পারে। আর এই এক দিনে দুই ভোট, ব্যালট ব্যবস্থাপনা ও গণনা ছাড়াও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা, আইনশৃঙ্খলা ও সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন এবং সামাজিক মাধ্যম ও এআই ব্যবহারজনিত চ্যালেঞ্জ কমিশনের সামনে বড় হয়ে উঠতে পারে ধারণা করছেন অনেকে।

ড. বদিউল আলম : ইসির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে নির্বাচন সংস্থার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, এই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির সামনে যেটা করণীয় সেটি হলো তাদের আইন-কানুন বিধিবিধানের ক্ষেত্রে কঠোরতা প্রদর্শন করা। কেউ যদি এসব অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে ত্বরিত গতিতে ব্যবস্থা নেয়া। তারা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে খুব কঠোরতা প্রদর্শন করতে পারেনি। যেমন তারা এই যে মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় প্যানেল তৈরি হওয়ার কথা, সেটি হয়নি।

তিনি বলেন, আইনের ব্যাপারে আরো কঠোর হতে হবে। একই সাথে তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, প্রশাসন কোনোরকম পক্ষপাতমূলক আচরণ না করে। কারণ এখন তো প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে, ফলে তাদের এটা দেখার দায়িত্ব। তিনি বরেন, আইন রক্ষাকারী বাহিনী যাতে কোনোরকম পক্ষপাত না করে। এ ব্যাপারে তাদেরকে কঠোর হতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়াটা যাতে সঠিক হয়, যেমন এখন যাচাই-বাছাই চলছে, এই প্রক্রিয়া যেন কোনোরকম বিতর্কহীন হয়। এখানে যেন স্বচ্ছতা বিরাজ করে। নির্বাচন যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয় সে ব্যাপারে তাদের দৃষ্টি থাকতে হবে।

ড. আবদুল আলীম : সাবেক নির্বাচন সংস্কার ও ইনকোয়ারি কমিটির সদস্য এবং নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আবদুল আলীম বলেন, সংহিসতা ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অংশগ্রহণমূলক করতে পারাই হলো বর্তমান ইসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট- এটা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করার পরে ইলেকশন কমিশনের উচিত হবে, তাদের একটা ইভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়ন করা। যে দুইটা নির্বাচন তারা কিভাবে করল, কতটা সফল হলো, কতটা ভালো হলো, কতটা মন্দ হলো অর্থাৎ একটা সেলফ অ্যাসেসমেন্ট করা। নিজেদের বিশ্লেষণ নিজেরাই করা।

তিনি বলেন, আর তারপরে এবং তার ভিত্তিতে যে লার্নিংগুলো তারা পাবে তার ভিত্তিতে আগামী যে স্থানীয় নির্বাচনগুলো হবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ সব নির্বাচন কিন্তু হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কিভাবে সুন্দর করা যায়? ভালো করা যায় সেই দিকে ফোকাস করা।

তার মতে, দুই ভোট একই দিনে হবে এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, অন্তত ৮০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি ভোটার ভোট দিতে পারেন। এর মানে হলো ২০ কোটি ব্যালট গুনতে হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাত কোটি ভোটার ছিল। তাও গণনা শেষ হয়েছিল ভোটের পরদিন সকালে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে এবার সমস্যায় পড়তে হবে।

জেসমিন টুলি : কমিশনের সামনে নতুন বছরে চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি বলেন, এই বড় দুটো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এটার ওপরই তাদের আগামী নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্যতা আসবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।