খুলনা ব্যুরো
খুলনা সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ সাত হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৩৩৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও পেশ করা হয়। কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল সোমবার নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৯০ লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সরকারি বরাদ্দ থেকে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো: মনিরুজ্জামান। খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান ও নগনীর সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও নাগরিক নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে প্রশাসক বলেন, এটি একটি উন্নয়নমুখী বাজেট। নতুন কোনো কর আরোপ না করে বকেয়া পৌরকর আদায়ের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নবনির্মিত স্থাপনার উপর প্রচলিত নিয়মে পৌরকর ধার্য, মার্কেট, দোকান, নতুন স্থাপনা নির্মাণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিজস্ব আয়ের সম্প্রসারণ করাই বাজেটের মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণসহ স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ওপর এ বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেসিসির দাফতরিক কার্যক্রমের আধুনিকায়নসহ সড়ক, ড্রেন ও ধর্মীয় উপসনালয়ের উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাজেটের সফল বাস্তবায়নে তিনি সব শ্রেণিপেশার নাগরিকের পরিপূর্ণ আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বাজেট বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, মাস্টার রোল ও আউটসোসিং কর্মকর্তা কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন ভাতা, নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নিজস্ব তহবিল হতে উন্নয়ন খাতে ৭৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্তখাত, বিএমডিএফ, অবকাঠামো তৈরি, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সমাজ কল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি ও কঞ্জারভেন্সি উন্নয়ন খাতে ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং মূলধন খাতে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), থোক ও বিশেষ বরাদ্দে চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। থোক বরাদ্দ থেকে পূর্ত খাতে ৯২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, জরুরি পানি চাহিদা খাতে দুই কোটি টাকা, ভেটেরিনারি খাতে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং কঞ্জারভেন্সি খাতে ৩৩ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় এডিপিতে তিনটি প্রকল্পে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা চলতি বছরে পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। বাজেটে এসব পঝকল্পে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা, হেলদি সিটি খুলনা আরবান লিড প্রোগ্রামে ১৩ লাখ টাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতি মোকাবেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নগর অঞ্চল প্রকল্প-২-এ ২০ কোটি টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ছয় হাজার টাকা, ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ এডাপটেশন আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-২-এ ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ছয় হাজার টাকা, কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যাট রিকভারি প্রকল্পে ১৬ কোটি ৩১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, স্মার্ট ওয়াশ ইনিশিয়েটিভ বাই ইউনিসেফ প্রকল্পে সাত কোটি ৫০ লাখ টাকা, লিভেবল অ্যাট ইনক্লুসিভ সিটিস ফর অল প্রকল্পে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রিজিওনাল আরবান টিউটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।



