এনসিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের রিভিউ শুনানি

তদন্তে মেলেনি প্রমাণ, তবুও তিনি যুদ্ধাপরাধী!

Printed Edition

আলমগীর কবির

মুক্তিযুদ্ধের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচারাধীন একটি মামলা ঘিরে চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন আইনি জালিয়াতির অভিযোগ উঠে এসেছে। আসামিপরে দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে করা পুনঃতদন্তে (ফার্দার ইনভেস্টিগেশন) কোনো অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণই (প্রাইমা ফেসি) পাওয়া যায়নি; এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাও আসামির সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। অথচ তদন্ত সংস্থার এই চূড়ান্ত ‘অব্যাহতি সূচক’ প্রতিবেদনটি আদালতের কাছে একপ্রকার গোপন করে বা আড়াল করে আগের বাতিলযোগ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করা হয়েছিল।

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোজুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ মামলার গতিপ্রকৃতি এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারিক নিরপেতা নিয়ে এখন খোদ বর্তমান প্রসিকিউশন দলই ঘোর সংশয় প্রকাশ করেছে। তৎকালীন প্রসিকিউশনের ভূমিকা, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মামলা সাজানোর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ওপর শুনানি শেষে আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত আদেশের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার নথি ও অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলাটি প্রথমে ফাইল হয় ২০০৯ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি ফেনীতে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোজু, মো: ইউসুফ ও নূর মোহাম্মদ ওরফে এম নূর আহমদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ঠিক দুই বছর পর, ২০১৯ সালের ৩০ মে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ৯১ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ।

ওই প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত অপরাধ সংগঠনের তথ্য দাবি করে দু’টি নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। প্রথম অভিযোগ (২৯ এপ্রিল, ১৯৭১) : ফেনী সদরের ফকিরহাট বাজারে আবুল হোসেনের দোকানে সশস্ত্র হামলা চালান তোফাজ্জল হোসেনসহ সাত-আটজন রাজাকার। তোফাজ্জলের নিজ হাতের রাইফেলের গুলিতে দোকানি আবুল হোসেন নিহত হন এবং উত্তর ধলিয়ার গোলাম রব্বানী আহত হন। বাজারে লুটপাট ও আগুন দেয়ার পর আবুল হোসেনের লাশ জ্বলন্ত আগুনে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ (১০ আগস্ট, ১৯৭১) : উত্তর গোবিন্দপুরের আবদুর রউফের বাড়িতে লুটপাট এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক শামছুল হক, আবদুল হক, মুজিবুল হক ও রউফকে অপহরণ করে নির্যাতন চালানো হয়। একই রাতে তোফাজ্জলের নির্দেশে উত্তর গোবিন্দপুরের আবদুল ওহাবকে গুলি করে হত্যা করেন আবু ইউসুফ। বন্দীদের কালিদহ বড়দাহ প্রসন্ন রায় জমিদার বাড়ির রাজাকার ক্যাম্পে নির্যাতন করার কথা বলা হয়।

রাষ্ট্রপ থেকে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করা হলে অভিযুক্ত তোফাজ্জল ও ইউসুফ পলাতক থাকেন। পরবর্তী সময়ে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ করে চার্জ শুনানির আয়োজন করা হয়।

২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর তৎকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রথম শুনানিতেই গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যবেণ দেন। নথিপত্রে অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণ ও ভিত্তি না থাকায় অর্থাৎ মামলাটি ‘কেস অব নো এভিডেন্স’ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেেিত ট্রাইব্যুনাল নিজ থেকে (সুয়োমোটো) পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্তের ভার পড়ে তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মতিউর রহমানের ওপর। ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট তিনি ট্রাইব্যুনালে একটি বিস্তারিত পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই প্রতিবেদনটিই মামলার মূল মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়; ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র পর্যালোচনায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আবুল হোসেনকে হত্যা, গোলাম রব্বানীকে আহত করা কিংবা আবদুল ওহাবকে হত্যা ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ (প্রাইমা ফেসি) পাওয়া যায়নি।’

অনুসন্ধানে উঠে আসে, পুনঃতদন্তকালে নিহতের স্ত্রী ও প্রত্যদর্শী স্বজনরা স্পষ্ট জবানবন্দী দেন যে, তোফাজ্জল হোসেন ওই ঘটনার সাথে যুক্ত ছিলেন না এবং অপরাধীদের তালিকায় তার নাম ছিল না। এমনকি ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দাফতরিক তালিকাতেও সে দিনের আসল অপরাধী হিসেবে অন্য এক ব্যক্তির নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে, যেখানে তোফাজ্জলের নাম রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধী কোনো তালিকাতেই নেই।

আসামিপরে অভিযোগ, ২০২৩ সালের আগস্টে নিরপে পুনঃতদন্তে তোফাজ্জল হোসেন সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হলেও তৎকালীন প্রসিকিউশন টিম ওই সত্যকে আড়াল করে। ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন আদালতকে জানান ‘নতুন করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তাই আগের তদন্তের ভিত্তিতেই বিচার চলবে।’

পুনঃতদন্তে অপরাধের প্রমাণ মেলেনি; এ কথা গোপন রেখে এবং ট্রাইব্যুনালকে বিভ্রান্ত করে ২০২৪ সালের ১৬ মে আসামির অনুপস্থিতিতে তোফাজ্জল হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করায় তৎকালীন বিচারিক প্যানেল।

পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তোফাজ্জল হোসেন দেশে ফেরেন এবং ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল এনসিসি ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে জামিন দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। জামিন পাওয়ার পরপরই তোফাজ্জল হোসেন তার আইনজীবীদের মাধ্যমে চার্জ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ‘রিভিউ’ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান।

গত ১৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই রিভিউ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আসামিপে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। তিনি নথিপত্র উপস্থাপন করে বলেন ‘তোফাজ্জল হোসেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, তিনি এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং একাধিক ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না বা রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। মূলত ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে তার প্রতিপ ও প্রতিযোগীরা তাকে সর্বস্বান্ত করতে ২০০৯ সালে এই ভুয়া ঘটনাটি সাজায়।’

তিনি আরো যোগ করেন, যে ভিকটিমের স্ত্রীর এজাহারে তোফাজ্জলের নাম ছিল না, তাকে আইসিটির মামলায় জড়ানো হলো। ট্রাইব্যুনাল নিজ আদেশে ২০২২ সালে বললেন এখানে ‘কেস অব নো এভিডেন্স’। এরপর উপ-পরিচালক মতিউর রহমান তদন্ত করে রিপোর্ট দিলেন যে, তিনি নির্দোষ। সেই প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা থাকলেও তৎকালীন প্রসিকিউশন তা ট্রাইব্যুনালের নজর থেকে আড়াল করে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে চার্জ গঠন করাল। এটি একটি স্পষ্ট আইনি প্রতারণা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করতেই তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।

শুনানির পর তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে ব্যারিস্টার রেদোয়ান হোসেন ােভ প্রকাশ করে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা মামলার প্রতিটি ইনভেস্টিগেশন ও ফার্দার ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট কোর্টে এনেক্স করেছি। প্রথম ও শেষ উভয় তদন্তেই বলা হয়েছে আসামির বিরুদ্ধে প্রাইমা ফেসি কোনো কেস নেই। আদালতের আদেশেও লেখা ছিল পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তারপরও কিভাবে চার্জ গঠন করা হয়। আমরা ট্রাইব্যুনালের কাছে এই ভিত্তিহীন আদেশ থেকে অব্যাহতির প্রার্থনা জানিয়েছি।

মামলার শুনানি চলাকালে ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর ও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটরের বক্তব্য এই মামলার বস্তুনিষ্ঠতাকে মারাত্মক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম অত্যন্ত খোলামেলাভাবে মামলার ত্রুটি স্বীকার করে আদালতকে বলেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আমরা নিজেরাও চরম বিভ্রান্ত ও সন্দিহান। আসামির বিরুদ্ধে যেখানে প্রাথমিক কোনো তথ্য-প্রমাণই পাওয়া যায়নি, সেখানে কিভাবে এই মামলা কগনিজেন্স (আমলে) নেয়া হলো বা ফরমাল চার্জ গঠন হলো? এটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ একটি মামলা, যা বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছিল।

পরে নয়া দিগন্তকে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্ট নীতি নিয়ে চলছি; কোনো প্রকৃত অপরাধী যেমন ছাড় পাবে না, তেমনি কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন আমাদের এই ট্রাইব্যুনালকে হাতিয়ার বানিয়ে হয়রানির শিকার না হয়। আগামী তারিখে আমরা নথিপত্র দেখে যদি বুঝি মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল, তবে আমরা সরাসরি ট্রাইব্যুনালকে জানিয়ে দেবো যাতে নিরপরাধ ব্যক্তি মুক্তি পান।

এ দিকে চিফ প্রসিকিউটরের এক বক্তব্যের পরিপ্রেেিত ট্রাইব্যুনাল ােভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন ‘প্রাথমিক প্রমাণ (প্রাইমা ফেসি) না পেয়েও যারা চার্জ গঠন করেছিল, তাদের একজনেরও চাকরি থাকার কথা নয়।’

অন্য দিকে অভিযোগ অস্বীকার করে তৎকালীন প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ সিমন আসামিপ ও বর্তমান প্রসিকিউশনের দাবিকে ‘মিথ্যা ও অবান্তর’ বলে দাবি করেন। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রসিকিউশন সম্পূর্ণ নিরপেভাবে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছে। তোজুর বিরুদ্ধে মৌখিক ও প্রামাণ্য নথি (ডকুমেন্টারি এভিডেন্স) ছিল। জনকণ্ঠের ‘রাজাকার কে কোথায়’ সংকলনে তার নাম রয়েছে এবং ১৯৭২ সালে কোলাবোরেটর অ্যাক্ট হওয়ার আগেই তাকে রাজাকার হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোর্টকে প্রভাবিত করা বা তথ্য আড়াল করার কথা বলা সম্পূর্ণ ননসেন্স এটিচিউড ও মিথ্যাচার। সব ডকুমেন্ট কোর্টে সংরতি আছে। আর পুনঃতদন্ত (ফার্দার ইনভেস্টিগেশন) দেয়ার যে আদেশ ট্রাইব্যুনাল দিয়েছিল, তা আইন ও রুলস কাভার করে না। এটি ট্রাইব্যুনালের ভুল ছিল, প্রসিকিউশনের নয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের জবানবন্দী বদলানো প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, পরবর্তী প্রতিবেদনে সাীরা তোফাজ্জলের পে কথা কেন বলেছে? এখন কোনো ভিকটিম পরিবারকে যদি টাকা-পয়সা দিয়ে বা ভয়-ভীতি দেখায়, প্রভাবিত করা হয়, সেখানে প্রসিকিউশনের কী করার আছে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বলে একটা কথা আছে, তারা তৎকালীন তদন্ত সংস্থাকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে; কিন্তু প্রসিকিউশন মাথা নত করেনি। আমাদের জমা দেয়া নথিতে তোজু স্পষ্টতই অপরাধী।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী কোনো মামলার চার্জ গঠনের পূর্বশর্ত হলো অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণের উপস্থিতি। যেখানে তদন্তকারী সংস্থা নিজেই পুনঃতদন্তে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করে রিপোর্ট দাখিল করেছে, সেখানে সেই রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালের নজর এড়িয়ে বা অগ্রাহ্য করে ফরমাল চার্জ গঠন করা আইনগতভাবে মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ।

একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশত্যাগে বাধ্য করা এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নথিপত্রের সত্যতা প্রকাশ পাওয়া সমগ্র ট্রাইব্যুনালের অতীত ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩১ আগস্ট এই রিভিউ আবেদনের ওপর তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। সেদিনই নির্ধারিত হবে নথিপত্র ও তদন্ত রিপোর্টের আলোকেই কি তোফাজ্জল হোসেন অব্যাহতি পাবেন, নাকি মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধের এই বিতর্কিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম নতুন মোড় নেবে।